
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত নতুন সমঝোতাকে ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে দেখছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক গিদেওন লেভি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যে নীতি অনুসরণ করে আসছিলেন নেতানিয়াহু, সেটিই ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান প্রকল্প। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আলোচনার পুরো প্রক্রিয়া থেকেই কার্যত বাইরে চলে গেছে।
লেভির মতে, আলোচনায় অংশ নিতে না পেরে ইসরায়েল এখন কেবল বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নিতে পারে। তিনি বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে রোববার ইসরায়েলের বিমান হামলাকে ‘শিশুসুলভ ও অর্থহীন পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘এখন স্পষ্ট যে এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তবে লেভির মতে, যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ নেতানিয়াহু এমন কোনো সমঝোতা মেনে নিতে চাইবেন না, যা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তি এখনো খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে লেবাননের পরিস্থিতি।
লেভির দাবি, ইরান লেবাননের পরিস্থিতিকে এই চুক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা কঠিন হতে পারে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনারা এখনো লেবাননের কিছু এলাকায় অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিতও দিচ্ছে না। তাই সেনা উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রকৃত অর্থে ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি’ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।
লেভির ভাষায়, ‘যতদিন লেবাননে ইসরায়েলি সেনা থাকবে, ততদিন সেখানে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলতেই থাকবে।’













































