বৃহস্পতিবার । জুন ১৮, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক ওয়ার্ল্ডকাপ গোল গ্রাফ ১৭ জুন ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভিসা জটিলতা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে পারবেন ইরানের তোরাবি


Torabi

দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা থাকলেও তোরাবির ভিসা ছিল সিঙ্গেল এন্ট্রি

ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো খেলতে পারবেন ইরানের উইঙ্গার মেহদি তোরাবি। ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) জানিয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে নতুন করে একাধিকবার প্রবেশের (মাল্টি-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান দলের বেস ক্যাম্প রয়েছে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায়। সেখান থেকে যাতায়াত করে তারা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলছে। প্রথম দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং শেষ ম্যাচটি সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের ফুটবল ফেডারেশন জানায়, দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা থাকলেও তোরাবির ভিসা ছিল সিঙ্গেল এন্ট্রি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর সেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে রোববার বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তার নতুন ভিসা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তবে ফিফার সঙ্গে সমন্বয় এবং ফেডারেশনের প্রচেষ্টার ফলে মঙ্গলবারই তোরাবির জন্য নতুন মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা অনুমোদন করা হয়।

৩১ বছর বয়সী তোরাবি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বদলি বেঞ্চে ছিলেন, তবে মাঠে নামেননি।

ইরানে তিনি সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। ২০১৯ সালের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় এক ক্লাব ম্যাচে তিনি এমন একটি টি-শার্ট পরেছিলেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘দেশকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে বলেছিলেন, আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

বিশ্বকাপ চলাকালে ভিসা ইস্যুতে শুধু তোরাবিই নন, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও সমস্যার মুখে পড়েন। দলের তত্ত্বাবধায়ক মাহদি মোহাম্মদ নাবি-সহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়নি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এমনকি এটি হতে পারত প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে আয়োজক দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত একটি দেশ অংশ নিচ্ছে। তবে ইরানের প্রথম ম্যাচের মাত্র একদিন আগে দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি ঘোষিত হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

বাংলা টেলগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস