cosmetics-ad

দক্ষিণ কোরিয়ার পানশালায় ককটেল বানাতে ব্যস্ত রোবট

korean-robot

করোনাভাইরাস বাস্তবতায় পাল্টে গেছে বিশ্বের চিত্র। অনেক স্থানে মানুষের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে রোবট। এমনকি ককটেল বানাতে রোবট ব্যবহার করা শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার এক পানশালা। পানশালায় গেলেই চোখে পড়বে উল্টো করে ঝুলানো ২৫টি বোতল থেকে বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহল নিয়ে ককটেল বানাচ্ছে এক রোবট, পাশেই আরেক রোবট আবার ছুরি আর আইসপিক ‘হাতে’ ব্যস্ত বরফের বল বানাতে। আর এতে মানব বারটেন্ডারের যে সময় লাগে, তার ভগ্নাংশ সময়ের মধ্যে বল তৈরি করতে পারে রোবটটি। — খবর রয়টার্সের।

রোবো-বারটেন্ডার ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাফে ও পানশালাগুলোতে। করোনাভাইরাস বাস্তবতায় লকডাউনের পর আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে এ খাতটি। সরকারের বেঁধে দেওয়া “দৈনন্দিন জীবনে দূরত্ব” মেনে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

রোবট শুধু যে পানশালায় বরফের বল বানাচ্ছে তা নয়, কোরিয়ান ভাষায় কাজের বর্ণনাও করছে এই রোবট বারটেন্ডার। ছয় ফুট লম্বা রোবো বারটেন্ডার ‘কাবো’ হুইস্কির জন্য বরফের বল তৈরি করতে করতে বলছে, “এটা দেখতে পাচ্ছেন? সুন্দর করে বানানো এক বরফের বল। এই নিন ঠান্ডা হুইস্কি উপভোগ করুন”।

কাবো-কে প্রথমবারের মতো বিশ্ব দেখেছিল ২০১৭ সালে। বছর দুয়েক পরে এখন পানশালায় কাজে নেমেছে রোবটটি। রোবট ব্যবহার প্রসঙ্গে মানুষ বারটেন্ডার চুই ওয়ান-উ বলেছেন, “সাধারণত পানীয় তৈরি ও পরিবেশনের এই কাউন্টারে মানুষের ভীড় লেগেই থাকে। এতে ক্রেতারা অস্বস্তি বোধ করতে পারেন, সংক্রমণের ভয়ও পেতে পারেন। কিন্তু আমাদের বদলে যদি রোবট বানায় এবং বরফ দেয়, তাহলে তারা অনেকটাই নিরাপদ বোধ করবেন”।

দেশটির ‘ক্যাফে বট বট কফি বার’-এ রোবোটিক হাত তৈরি করবে মোহিতো এবং অন্যান্য ককটেল। পানশালার ব্যবস্থাপক কিম তাই-ওয়ান জানিয়েছেন, রোবটের পক্ষে পানীয়র মিশ্রণের মান যেভাবে ঠিক রাখা সম্ভব, মানুষের পক্ষে সেভাবে সম্ভব নয়।

এমনিতে রোবো-বারটেন্ডার নিয়ে বেশ নিরাপদ বোধ করছেন গ্রাহকরা। তবে, গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা তুলে ধরলেন ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মুন-সিয়ং-ইউন নামের এক গ্রাহক। “খানিকটা হতাশার বিষয় হচ্ছে যে, আপনি এই রোবট বারটেন্ডারের সঙ্গে আলাপ করতে পারছেন না। পানশালার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পানের পর বারটেন্ডারের সঙ্গে পানীয় নিয়ে অন্য কোনো বিষয়ে চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে পারেন ক্রেতা। এখানে সেটা হচ্ছে না।”