মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৬ জুন ২০২৫, ৯:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

প্রথমবারের মতো নিজ দেশে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো জাপান


japan missile

ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো নিজ দেশের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার (২৪ জুন) এ পরীক্ষা পরিচালনা করে দেশটির সেনাবাহিনী। পরদিন বুধবার (২৫ জুন) মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি তাদের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব ঠেকাতে এবং নিজ দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে জাপান এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইডো দ্বীপে অবস্থিত একটি সামরিক ফায়ারিং রেঞ্জে ভূমি থেকে জাহাজে নিক্ষেপযোগ্য টাইপ-৮৮ মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

এর আগে জাপান সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে এ ধরনের মহড়া পরিচালনা করত। তবে সেসব মহড়া ব্যয়সাপেক্ষ এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও ছিল সীমিত।

জাপানের সরকার মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের ভেতরে এমন মহড়া পরিচালনার ফলে আরও বেশি সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দ্বীপাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকা রক্ষায় সক্ষমতা বজায় রাখা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তির নীতি অনুসরণ করে জাপান কেবল আত্মরক্ষার জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করত। কিন্তু ২০২২ সালে জাপান একটি নতুন পাঁচ বছরের নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে তারা আগ্রাসী প্রতিরক্ষা নীতিতে রূপান্তর ঘটায়। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ চীন সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবেলা।

এ লক্ষ্যে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোট আরও জোরদার করছে। চলতি বছরের শেষ দিকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা টমাহকসহ দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল মোতায়েন শুরু করবে।

এছাড়া, জাপান নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পাল্লার টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা টাইপ-৮৮ মডেলের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ নির্মিত ট্রাক-মাউন্টেড টাইপ-৮৮ গাইডেড মিসাইলের পাল্লা প্রায় ১০০ কিলোমিটার বা ৬২ মাইল।

বর্তমানে জাপান প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর লক্ষ্য হলো জিডিপির দুই শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা, যা ন্যাটোর মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।