রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক বিনোদন ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ অপরাহ্ন
শেয়ার

সালমান খানের ষাটে পা

ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে অপরাজেয় ভাইজান


Salman Khan

বলিউড সুপারস্টার সালমান খান

পর্দায় তিনি কখনো রোমান্টিক ‘প্রেমিক’, কখনো দুর্ধর্ষ ‘টাইগার’, আবার কখনো অন্যায় দমনে ‘চুলবুল পান্ডে’। বাস্তবের জীবনটাও তাঁর কোনো টানটান চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। আজ সেই বর্ণিল মানুষটি, বলিউডের মহাতারকা সালমান খান পা রাখলেন ৬০ বছরে। তিন দশকের ক্যারিয়ারে বক্স অফিস কাঁপানো এই নায়কের ব্যক্তিগত জীবন যেন রোলারকোস্টার রাইড—যেখানে আকাশছোঁয়া সাফল্য যেমন আছে, তেমনি আছে অন্ধকারের হাতছানি।

শূন্য থেকে শিখরে
১৯৮৮ সালে ‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ দিয়ে শুরুটা সাদামাটা হলেও পরের বছরই ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ দিয়ে গোটা ভারতে ‘প্রেম’ ঝড় তুলেছিলেন তিনি। রোমান্টিক হিরো হিসেবে ‘সাজন’ বা ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’-এ যখন রাজত্ব করছেন, তখনই হোঁচট খান একের পর এক ফ্লপে। কিন্তু ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়ান ২০০৩-এ ‘তেরে নাম’ এবং ২০০৯-এ ‘ওয়ান্টেড’ দিয়ে। এরপরের গল্পটা কেবলই রেকর্ডের। ইদানীং বক্স অফিস কিছুটা ঝিমিয়ে থাকলেও সালমানের ক্রেজ কমেনি এক বিন্দু;৬০ বছরে এসেও তিনি তরুণীদের হার্টথ্রব আর ভক্তদের প্রিয় ‘ভাইজান’।

বিতর্কিত প্রেম ও ‘চিরকুমার’ রহস্য
সালমানের জীবন আর বিতর্ক যেন যমজ ভাই। ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় জুড়ে তাঁর প্রেমকাহিনিগুলো মুখরোচক খবর জুগিয়েছে সংবাদমাধ্যমকে। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়। ক্যাটরিনা কাইফ, সোমি আলী থেকে সঙ্গীতা বিজলানি—প্রেমের পালে হাওয়া লাগলেও ছাদনাতলা পর্যন্ত পৌঁছানো হয়নি তাঁর। সোমি আলীর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ বা সঙ্গীতার সাথে বিয়ের কার্ড ছেপেও শেষ মুহূর্তে বিচ্ছেদ, সব মিলিয়ে আজও বলিউডের সবচেয়ে এলিজিবল ‘ব্যাচেলর’ তিনি।

Salman Khan

গহিন আঁধার ও জেলের ঘুপচি ঘর
চকচকে গ্ল্যামারের আড়ালে সালমানের জীবন দেখেছে নিকষ অন্ধকারও। যোধপুরে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা এবং মুম্বাইয়ের ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলা তাঁকে বছরের পর বছর আদালত আর জেলের বারান্দায় ঘুরিয়েছে। বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে জেলের স্যাঁতসেঁতে ঘরে রাত কাটাতে হয়েছে এই সুপারস্টারকে। যদিও আইনি লড়াই শেষে তিনি সব মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন কিন্তু সেই ছায়া তাঁকে তাড়া করে বেরিয়েছে দীর্ঘদিন।

পরিবার ও ‘কঠিন’ পর্দার আড়ালে নরম মন
বাইরে মেজাজি মনে হলেও পরিবারের কাছে সালমান আজও বাধ্য সন্তান। বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের এই পুত্র আজও মঞ্চে বাবার পাশে বসেন না, দাঁড়িয়ে থাকেন পেছনে। ভাই-বোন আর বাবা-মায়ের প্রতি তাঁর এই আনুগত্য অনুকরণীয়। একই সাথে তিনি একজন সমাজসেবকও। নিজের সংগঠন ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর মাধ্যমে নিভৃতে আর্তমানবতার সেবা করে যাচ্ছেন তিনি; করোনা থেকে শুরু করে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।

প্রাণনাশের হুমকি ও ভাগ্যের লিখন
বর্তমানে সালমান পার করছেন এক অস্থির সময়। গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই দলের পক্ষ থেকে ক্রমাগত খুনের হুমকি এবং গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনা তাঁর নিরাপত্তাকে সংকটে ফেলেছে। বুলেটপ্রুফ গাড়ি আর কড়া প্রহরির মাঝে দাঁড়িয়েও সালমানের সহজ স্বীকারোক্তি—ভাগ্যে যা লেখা আছে, তাই হবে

সালমান মানে আবেগ, ভালোবাসা, উন্মত্ততা। আজও তাঁর বাসার বাইরে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করেন তাঁকে একঝলক দেখার জন্য। প্রতিবারের মতো এবারও বিশেষ এই দিনে দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ হয়তো ভিড় করেছেন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে। তাঁরা শুধু বলতে চান, ‘শুভ জন্মদিন ভাইজান’।