রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ট্রাফিক পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে পদ হারালেন বিএনপি নেতা


bogura-news

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে মারমুখি আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের ঘটনায় দলীয় পদ হারালেন এক বিএনপি নেতা। অভিযুক্ত নেতার নাম নাজিউর রহমান নাজির। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মাশফিকুর রহমান মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে। ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে থাকা অবস্থায় নাজিউর রহমান নাজির সিগন্যাল অমান্য করে রিকশা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সহকারী টাউন উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জয়নাল আবেদীন তার রিকশা আটকে দেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজির রিকশা থেকে নেমে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন এবং প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মারমুখি আচরণও করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে সরিয়ে দেন।

ঘটনার একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার বিকেলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অসংখ্য মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পরে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতেই ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করেন।

শুক্রবার বিকেলে শাজাহানপুর উপজেলায় এক সংবাদ সম্মেলনে নাজিউর রহমান নাজির ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান। তবে তিনি দাবি করেন, মেয়েকে নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার সময় যানজটে আটকা পড়েন। এ সময় ট্রাফিক পুলিশকে রিকশা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে পুলিশ সদস্য তার মেয়ের সামনে তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন। এতে তিনি অপমানিত ও উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন, যা ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন।

অন্যদিকে বগুড়া সদর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী টাউন উপপরিদর্শক জয়নাল আবেদীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করা হয়নি। ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং আমরা তিনজন ট্রাফিক ডিউটিতে ছিলাম। আমরা শান্তভাবেই দায়িত্ব পালন করেছি। স্থানীয় লোকজনই ভিডিও ধারণ করেছেন এবং তারাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আতোয়ার রহমান জানান, ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পুলিশ সুপার বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি ফিরে এলে এ বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।