
নিজাম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নিজাম উদ্দিন (৪৫) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৩১ মে থেকে টানা ১১ বছর ৭ মাস ১০ দিন নিজাম উদ্দিন ভাত খাননি। বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত মুখে তুলবেন না—এমন শপথ নিয়েই তিনি দীর্ঘদিন কলা, রুটি, চিড়া ও শুকনা খাবার খেয়ে জীবনযাপন করতেন।
পরিবার জানায়, ২০১৪ সালের ৩১ মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামের দোয়া ও খাবারের আয়োজন চলাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে রান্না করা খাবারের হাঁড়ি ফেলে দেন। এ ঘটনায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও অপমানিত হয়ে সেদিনই ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন নিজাম উদ্দিন।
নিজাম উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম বলেন, “বাবাকে ভাত খাওয়াতে আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে বহুবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি বলতেন, প্রতিজ্ঞা ভাঙলে নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাব। শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।”
পরিবারের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিজাম উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে এলে তাঁর নির্দেশনায় ফরিদপুর ও ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও পুরোপুরি সুস্থ হননি। শেষ পর্যন্ত অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেই তার মৃত্যু হয়।
নিজাম উদ্দিন মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত নূরানী বাক্স মণ্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি।
তার মৃত্যুতে বাঁশবাড়িয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাড়িতে ভিড় করছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও সাধারণ মানুষ। অনেকেই তাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞার প্রতীক’ হিসেবে স্মরণ করছেন।
মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “নিজাম উদ্দিনের এই আত্মত্যাগ দলীয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা সবসময় তার পরিবারের পাশে থাকব।”









































