
ইট-পাথরের ধূসর ক্যানভাসে যেন এক নিপুণ তুলিতে এঁকে দিয়েছিল রঙের আল্পনা। যান্ত্রিক ঢাকার ব্যস্ত নাগরিকেরা হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়েছিল এক পশলা সুবাসের টানে। রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত রমনা পার্ক যেন তিনদিনের জন্য নিজেকে হারিয়েছিল এক পুষ্পরাজ্যে। শিশিরভেজা ঘাস আর নাম জানা ও অজানা রঙ্গিন হাজারো ফুলের পাঁপড়িতে ঢাকার এই উদ্যান মনে করিয়ে দিয়েছিল নগরের বুকেও লুকিয়ে থাকতে পারে প্রকৃতির এক অপার্থিব স্নিগ্ধ রূপ।


শকুন্তলা চত্বরের সেই ডালিয়াগুলোর আভিজাত্য কিংবা ভিনদেশি টিউলিপের লাজুক হাসি সব মিলিয়ে শতাধিক প্রজাতির ফুলের এক বর্ণিল সমাবেশ ঘটে রমনায়। বাগান সাজানোর সেই নিপুণ কারুকাজ আর রঙের বিন্যাস দর্শকদের কেবল মুগ্ধই করেনি বরং বিমোহিত করে রেখেছিল প্রতিটি মুহূর্ত।

এই আয়োজন যেন ছিল নগরবাসীর জন্য এক নীরব থেরাপি, যেখানে বিলুপ্তপ্রায় অনেক ফুলের সাথে পরিচয় ঘটেছে নতুন প্রজন্মের। মানুষের এই অভাবনীয় প্রাণের স্পন্দন আর ফুলের প্রতি ভালোবাসা ছাপিয়ে গেছে সব আয়োজনকে।

ফুলের পাপড়িতে পাপড়িতে যে রঙিন আবেশ ছড়িয়েছিল, তা এখন নগরবাসীর মনে প্রশান্তির এক জীবন্ত ছবি হয়ে গেঁথে থাকবে আরও অনেক দিন। এই পুষ্পিত আয়োজন যেন এক নীরব প্রতিশ্রুতি ধূসর শহরের বুকেও প্রাণের স্পন্দন বারবার ফিরে আসবে।

উৎসবের কোলাহল হয়তো ছাপিয়ে যাবে প্রাত্যহিক জীবনের হর্নের শব্দে কিন্তু রমনার নিভৃত বাতাসে মেখে থাকা সেই অমলিন ঘ্রাণ আর বাহারি রঙের স্মৃতিগুলো নাগরিকদের হৃদয়ে রয়ে যাবে এক পশলা স্বস্তির মতো। প্রকৃতি আর মানুষের এই যে মেলবন্ধন, তা যেন বারবার নতুন করে সাজায় আমাদের প্রিয় ঢাকাকে; আর প্রতিটি ঋতুতে রমনা যেন এমন করে বারবার ফিরে পায় তার হারানো যৌবন।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প










































