
স্ত্রী ও সন্তানের কবরের মাটি ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন সাদ্দাম।
নিশিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট জেলা সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর বিকেলে তিনি জেলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পান।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সন্ধ্যায় সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে পৌঁছেই তিনি ছুটে যান স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারতে। কবরের মাটি স্পর্শ করে তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন। স্ত্রীর কবরের কাছে দাঁড়িয়ে ভালো স্বামী হতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেন এবং সন্তানের কবরের সামনে ভালো বাবা হতে না পারার বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন তার শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার, শ্যালক শুভ হাওলাদার, ভাই শহিদুল ইসলামসহ দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এবং আশপাশের এলাকার লোকজন।
সাদ্দাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মতো করুণ পরিণতি যেন আর কোনো পরিবারকে ভোগ করতে না হয়। জুলাই আন্দোলন ছিল রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে, কিন্তু এরপর থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমার মতো অসংখ্য নেতাকর্মী বিনা কারণে জেলবন্দি রয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোর অবস্থাও আমার পরিবারের মতোই করুণ।”
তিনি আরও দাবি করেন, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
সাদ্দাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন। বাগেরহাট কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী স্বর্ণালী ও ৯ মাস বয়সী সন্তান নাজিমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, স্বর্ণালী বিষণ্নতায় সন্তানকে হত্যা করে পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেছেন। পরের দিন প্যারোল না পাওয়ায় মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুল্যান্সে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়।









































