
ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, উপদেষ্টার দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হলে আগামী রোববার থেকে পুনরায় কর্মবিরতি কর্মসূচি শুরু করা হবে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে এসে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা। এর আগে শনিবার থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে টানা কর্মবিরতি পালন করছিলেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। আন্দোলনের মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনা না করে কর্মচারীদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে তারা চারটি দাবি উপস্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ।
তিনি বলেন, নিউমুরিং টার্মিনাল ইস্যুতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্য দাবিগুলোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতেই শনিবার পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে রোববার থেকে আবারও আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ফলে পুরো বন্দরের কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম বন্দরে এসে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে বিকেলে বন্দর ভবনে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি।
বৈঠক শেষে নৌ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, রমজানের আগে বন্দর বন্ধ রেখে আন্দোলন চালানো অমানবিক। বন্দর বন্ধ রাখার এখতিয়ার কারও নেই। প্রয়োজনে সরকার কঠোর অবস্থানে যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নিউমুরিং টার্মিনালের চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে, তবে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করা হবে না। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি জানান, আলোচনা এখনো শেষ হয়নি।











































