জনপ্রিয় কানাডীয় গায়ক ও র্যাপার এপি ধিলনের জীবন এখন চাকচিক্য আর কোটি টাকার সম্পদে মোড়ানো হলেও, এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক সংগ্রামের মহাকাব্য। সম্প্রতি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কাপিল শর্মা শো’-এ হাজির হয়ে তিনি শুনিয়েছেন কীভাবে এক সময় রাস্তার ধুলোয় রাত কাটিয়ে আজ তিনি শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ১১০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক এই তারকার জন্য কানাডায় শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না।
কানাডায় প্রথম পা রেখেই এপি ধিলন এক রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হন। পকেটে নগদ টাকা থাকলেও ক্রেডিট কার্ড না থাকায় কোনো হোটেল তাঁকে রুম দিতে রাজি হয়নি। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি আর জেট ল্যাগ নিয়ে শেষমেশ হোটেলের সামনের রাস্তাতেই রাত কাটাতে হয় তাঁকে।
ধিলন স্মৃতিচারণ করে জানান, দুই রাত রাস্তায় কাটানোর পর এক ভারতীয় তরুণী ও তাঁর বয়ফ্রেন্ড দেবদূতের মতো এগিয়ে আসেন। অচেনা হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা নিজেদের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ধিলনের জন্য হোটেলের রুম বুক করে দেন। সেই মানবিক সাহায্যই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট, যা তিনি আজও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
জীবন গড়ার তাগিদে কোনো কাজকেই ছোট করে দেখেননি এই গায়ক। নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ জোগাতে টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করেছেন গ্যাস স্টেশন, কনভিনিয়েন্স স্টোর এবং ইলেকট্রনিক্স চেইন শপ ‘বেস্ট বাই’-তে। হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে তিনি যোগ দিতেন কলেজে। নিজের ঘরভাড়া আর খাবারের সংস্থান নিজেই করতেন। এই কঠিন সময়গুলোই তাঁকে মানসিকভাবে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর শক্তি জুগিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এপি ধিলনের সংগীতচর্চার শুরুটাও ছিল রূপকথার মতো। বড় কোনো নামি স্টুডিও নয়, বরং ভাড়াবাড়ির একটি ছোট গ্যারেজে প্লাইউড দিয়ে নিজের হাতে ১০ বাই ৬ ফুটের একটি কামরা তৈরি করেছিলেন তিনি। সেখানেই তিলে তিলে নিজের স্বপ্নের কারখানা গড়ে তোলেন। সেই প্লাইউডের ঘর থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘ব্রাউন মুন্ডে’, ‘এক্সকিউজ’, ‘ইনসেন’ বা ‘উইথ ইউ’-এর মতো বিশ্ব কাঁপানো সব গান। আজ ইউটিউব আর স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তাঁর গান মানেই কোটি কোটি ভিউ আর উন্মাদনা।
রাস্তার ধারে রাত কাটানো থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজত্ব করা এপি ধিলনের এই জীবনকাহিনি এখন বিশ্বজুড়ে অসংখ্য তরুণ শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণা। হাল না ছাড়া জেদ আর কঠোর অধ্যবসায় যে একজন মানুষকে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, এপি ধিলন তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।











































