বুধবার । মার্চ ৪, ২০২৬
সেতু ইসরাত লাইফস্টাইল ২ মার্চ ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

রমজানের সুস্থতায় ‘সুপার পাওয়ার’ চিয়া সিড


Chia-seed

‘সুপারফুড’ চিয়া সিড

মরুভূমির তপ্ত আবহাওয়ায় প্রাচীন অ্যাজটেক যোদ্ধারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার শক্তি পেতেন যে ক্ষুদ্র দানা থেকে, আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে তাকেই বলা হচ্ছে ‘সুপারফুড’ চিয়া সিড। রমজান মাসে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা অভুক্ত থাকার পর শরীরের কোষগুলো যখন পানিশূন্যতা ও পুষ্টির অভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন এক গ্লাস চিয়া সিডের শরবত হতে পারে জাদুকরী সমাধান।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই দানাগুলো কেবল ক্ষুধা মেটায় না বরং সারাদিনের রোজার ধকল সামলাতে শরীরকে ভেতর থেকে প্রস্তুত করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গরমে রোজাদারদের প্রধান শত্রু যে ‘ডিহাইড্রেশন’ বা পানিশূন্যতা, তা রুখতে চিয়া সিডের কোনো বিকল্প নেই।

কেন রমজানে চিয়া সিড আপনার সেরা সঙ্গী?

  •  চিয়া সিড নিজের ওজনের চেয়ে ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি পানি ধরে রাখতে পারে। সেহরিতে এটি খেলে শরীরের ভেতর একটি ‘পানির রিজার্ভার’ তৈরি হয়, যা দীর্ঘক্ষণ তৃষ্ণা অনুভব করতে দেয় না।
  • ইফতারে ভাজাপোড়া বা মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। চিয়া সিড এই শর্করা শোষণের গতি ধীর করে দেয়, ফলে শরীর দীর্ঘক্ষণ এনার্জি পায়।
  • রোজায় খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্য বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়। এর প্রচুর ফাইবার পরিপাকতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
  • যারা রমজানে ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদ। এর ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার সংকেত মস্তিষ্কে পাঠায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
Chia-seed

চিয়া সিডে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট

কখন ও কীভাবে খাবেন?

সেহরিতে দীর্ঘস্থায়ী শক্তির জন্য: সেহরির শেষ সময়ে এক বাটি টক দই বা দুধের সাথে ২ চামচ চিয়া সিড মিশিয়ে খান। এর সাথে কলা বা খেজুর যোগ করলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার হিসেবে কাজ করবে, যা আপনাকে দুপুরের পরেও ক্লান্ত হতে দেবে না।

ইফতারে সতেজতা ফেরাতে: ইফতারের ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানিতে চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখুন। ইফতারের সময় তাতে লেবুর রস, পুদিনা পাতা এবং সামান্য মধু বা গুড় মিশিয়ে পান করুন। এটি কৃত্রিম এনার্জি ড্রিংকের চেয়ে হাজার গুণ বেশি উপকারী এবং মুহূর্তেই সতেজতা ফিরিয়ে আনে।

খাওয়ার কিছু সৃজনশীল উপায়

১. চিয়া পুডিং: রাতে দুধ ও চিয়া সিড মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। সেহরিতে বের করে উপরে কিছু বাদাম ছিটিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা উপভোগ করুন।

২. স্মুদি: ইফতারে পছন্দের ফলের স্মুদির সাথে মিশিয়ে নিন। এটি পানীয়র ঘনত্ব বাড়াবে এবং পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করবে।

৩. সালাদ টপিং: ছোলা বা ফ্রুট সালাদের ওপর শুকনো চিয়া সিড ছিটিয়ে দিলে খাবারে চমৎকার ক্রাঞ্চ যোগ হয়। তবে এক্ষেত্রে খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে হবে।

Chia-seed

চিয়া পুডিং

বিশেষ কিছু সতর্কতা
চিয়া সিড কখনোই শুকনো অবস্থায় সরাসরি গিলে খাবেন না। এটি সবসময় অন্তত ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে জেলির মতো হলে তবেই গ্রহণ করুন। এছাড়া যাদের রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কম থাকে, তারা এটি খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

রমজানে সুস্থ থাকা মানেই শুধু পেট ভরে খাওয়া নয়, বরং সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার নির্বাচন করা। ক্ষুদ্রাকার চিয়া সিড সেই সঠিক নির্বাচনের একটি বড় অংশ হতে পারে। আপনার ইফতার বা সেহরির মেনুতে সামান্য এই পরিবর্তন সারাদিনের রোজাকে করতে পারে আরও সহজ, প্রাণবন্ত ও ক্লান্তিহীন। তাই এবারের ঈদে সুস্থ শরীরে আনন্দ করতে চাইলে আজ থেকেই আপনার রমজানের ডায়েট চার্টে যুক্ত করুন এই ‘সুপার পাওয়ার’ সুপারফুড।

বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজুয়াল