
সংগঠনটি জানিয়েছে, যুদ্ধের বিরোধিতা করে অনেক মার্কিন সেনা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটের চলমান সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন অনেক মার্কিন সেনা সদস্য। এমন দাবি করেছে যুদ্ধবিরোধী ও ‘কনশিয়েনশাস অবজেক্টর’দের সহায়তাকারী একটি অলাভজনক সংগঠন।
সংগঠনটি জানিয়েছে, যুদ্ধের বিরোধিতা করে অনেক মার্কিন সেনা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ফলে তাদের হটলাইনে ফোনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রিসনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, ‘আমাদের ফোন অবিরাম বেজে চলেছে। জনসাধারণ যতটা জানে তার চেয়ে অনেক বেশি ইউনিট ইতোমধ্যে মোতায়েনের জন্য সক্রিয় করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় আকারের সামরিক প্রস্তুতির যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তা অনেকটা ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের আগে দেখা পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রয়েছে।
গত সপ্তাহে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সময়ে আরও বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির বিষয়েও জল্পনা-কল্পনা চলছে।
এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কিছু সেনার জন্য নির্ধারিত একটি বড় প্রশিক্ষণ মহড়া বাতিল করেছে। এই ডিভিশনটি মূলত স্থলযুদ্ধে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ (ড্রাফট) চালুর সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলকভাবে পুরুষদের সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়েছিল।
স্কুলে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ
‘সেন্টার অন কনসায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার’ নামের সংগঠনটি এমন ব্যক্তিদের সহায়তা করে যারা নৈতিক বা ধর্মীয় কারণে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া বা যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানান।
সংগঠনটির দাবি, তাদের কাছে ফোন করা অনেক সেনা সদস্য জানিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে তাদের ইউনিটের ভেতরেও ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই স্কুলছাত্রী। অভিযোগ রয়েছে, প্রথম হামলার পর আশ্রয় নেওয়া বেঁচে যাওয়া মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের ওপর দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়।
এদিকে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরং দাবি করেছেন, ইরানের “অসঠিক অস্ত্রের” কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে—যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, উন্নত রাডার স্টেশন, সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নির্ভুল আঘাত হেনেছে।
মিডল ইস্ট আই








































