বৃহস্পতিবার । মার্চ ১২, ২০২৬
এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক বিনোদন ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

বয়সকে তুড়ি মেরে ‘সুবেদার’-এ অনিল কাপুরের দুর্দান্ত কামব্যাক


Anil Kapoor

অনিল কাপুর

হিন্দি সিনেমায় ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ বা ন্যায়পরায়ণ কিন্তু রাগী নায়কের চরিত্র নতুন কিছু নয়। তবে সেই চিরচেনা ফর্মুলাকে যখন নতুন আবহে পর্দায় নিয়ে আসেন পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণী, আর নাম ভূমিকায় থাকেন ৬৯ বছর বয়সী অনিল কাপুর, তখন দর্শকদের প্রত্যাশা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কাগজে-কলমে অনিল কাপুর বয়সের ভারে ‘ইয়ং ম্যান’ না হলেও, পর্দায় তাঁর নায়কোচিত উপস্থিতি প্রমাণ করে দেয় যে কেন তিনি আজও বলিউডে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ছবির নানা দুর্বলতা থাকলেও কেবল অনিল কাপুরের অভিনয়ের জোরেই ‘সুবেদার’ একবার দেখে নেওয়া যায়।

ছবিতে অনিল কাপুর অভিনয় করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা অর্জুন মৌর্যর চরিত্রে। দীর্ঘ সময় সীমান্তে দেশের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি ফিরে আসেন উত্তর ভারতের এক ক্ষয়িষ্ণু ছোট শহরে। কিন্তু ঘরে ফিরে তিনি এক ভিন্ন যুদ্ধের মুখোমুখি হন। গল্পের শুরুতেই দেখা যায় অর্জুনের স্ত্রী মারা গেছেন, আর তাঁর একমাত্র মেয়ে শ্যামার (রাধিকা মদন) সঙ্গে বাবার সম্পর্ক একদমই সহজ নয়। সীমান্তে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অর্জুন কখনো ঠিকমতো সংসার করতে পারেননি, এমনকি স্ত্রীর মৃত্যুর সময়েও পাশে থাকতে পারেননি। বাবার প্রতি মেয়ের এই জমে থাকা ক্ষোভ আর অভিমানই ছবির এক গভীর মানবিক দিক তুলে ধরে।

অর্জুন শহরে ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় এক লাল জিপসি গাড়ি নিয়ে। এই গাড়িটি নিছক কোনো যানবাহন নয়; তাঁর প্রয়াত স্ত্রী সেলাইয়ের কাজ আর আচার বিক্রি করে তিল তিল করে জমানো টাকায় এটি কিনেছিলেন। ফলে গাড়িটি অর্জুনের কাছে আবেগের নাম। কিন্তু এই জিপসি গাড়িকে কেন্দ্র করেই স্থানীয় এক ক্ষমতাশালী ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন অর্জুন। এক মাঝারি পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তা কীভাবে সেই অন্ধকার ক্ষমতার চক্রের মুখোমুখি হন, তা নিয়েই এগিয়ে যায় ছবির মূল প্লট। তাকে এই লড়াইয়ে সঙ্গ দেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু প্রভাকর (সৌরভ শুক্লা)।

Anil Kapoor

পুরো সিনেমার প্রাণই হলো অনিল কাপুরের অভিনয়

পুরো সিনেমার প্রাণই হলো অনিল কাপুরের অভিনয়। অর্জুন চরিত্রে তাঁর সংলাপ খুব বেশি নেই, কিন্তু তাঁর সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর ‘অ্যাংরি লুক’ অনেক না বলা কথা বলে দেয়। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে এই বয়সেও তিনি যে ক্ষিপ্রতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর ক্যারিয়ারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এই চরিত্রে এক ধরনের পরিণত শক্তি ও দৃঢ়তা এনে দিয়েছে। অনিল কাপুর আবারও দেখিয়ে দিলেন যে, কীভাবে সংযত অভিনয় দিয়েও একটি চরিত্রকে প্রবল প্রভাবশালী করে তোলা যায়।

মেয়ের চরিত্রে রাধিকা মদন বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। পরিচালক তাঁর চরিত্রটিকে বাবার ওপর নির্ভরশীল না করে স্বতন্ত্র একজন লড়াকু নারী হিসেবে দেখিয়েছেন। এ ছাড়া সৌরভ শুক্লা, মোনা সিং, আদিত্য রাওয়াল এবং ফয়সাল মালিক নিজ নিজ জায়গায় সাবলীল ছিলেন। বিশেষ করে মোনা সিং তাঁর ছোট চরিত্রেও চমক দিয়েছেন। পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণী তাঁর আগের কাজগুলোর মতোই এখানেও চরিত্রের ক্ষোভ ও ট্রমাকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ছবির সাউন্ড ডিজাইন এবং অধ্যায়ভিত্তিক বর্ণনা এর নান্দনিকতা বাড়িয়েছে।

ছবির ক্লাইম্যাক্স কিছুটা চেনা ছকের মনে হতে পারে এবং দুই ঘণ্টার এই ছবির গতি মাঝেমধ্যে একটু হোঁচট খায়। কাহিনীর দৈর্ঘ্য কিছুটা কমিয়ে আনলে হয়তো আরও উপভোগ্য হতো। তবে উত্তর ভারতের ছোট শহরের ক্ষমতা কাঠামোর বাস্তব চিত্র এবং অন্ধকার জগতকে নির্মাতা খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পুরোনো দিনের বলিউড অ্যাকশন থ্রিলারের সেই স্বাদ যেখানে নায়ক একা পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, সেই আমেজটি এখানে পাওয়া যাবে।

সব মিলিয়ে, চিত্রনাট্যে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও অনিল কাপুরের দুর্দান্ত স্ক্রিন প্রেজেন্সের কারণে ‘সুবেদার’ দর্শকদের নিরাশ করবে না। এটি কেবল একজন যোদ্ধার লড়াই নয়, বরং এক বাবার মেয়ের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচানোর চেষ্টার গল্পও বটে।