
এই সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতি চলার মধ্যে একটি বড় বিরোধের বিষয় হয়ে উঠেছে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের বিপুল সম্পদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
স্থগিত বা জব্দ সম্পদ কী?
স্থগিত (ফ্রোজেন) সম্পদ বলতে বোঝায়—কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ, সম্পত্তি বা বিনিয়োগ, যা অন্য দেশের সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা সাময়িকভাবে আটকে রাখে। এতে ওই সম্পদের মালিক তা ব্যবহার, স্থানান্তর বা বিক্রি করতে পারে না।
কেন ইরানের সম্পদ স্থগিত?
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ১৯৭৯ সালে, যখন তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকট তৈরি হয়। সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার প্রথমবার ইরানের সম্পদ জব্দ করেন।

পরবর্তীতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের কারণে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। ২০১৫ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে কিছু সম্পদ ছাড়া হয়েছিল, কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন এবং আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
কত সম্পদ আটকে আছে?
সম্পদের সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত নয়, তবে ইরানি কর্মকর্তারা এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে ইরানের স্থগিত সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বর্তমান আলোচনায় ইরান অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি করছে।
কোথায় রয়েছে এই সম্পদ?
ইরানের এই বিপুল অর্থ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। এরমধ্যে চীনে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। ভারতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। ইরাকে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। কাতারে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। জাপানে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার এবং লুক্সেমবার্গসহ ইউরোপের কিছু দেশে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার।
এই অর্থের বেশিরভাগই তেল বিক্রির আয়, যা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকে আটকে আছে।
কেন এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ?
ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে সংকটে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, মুদ্রার মান পতন এবং বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে দেশটি চাপে আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্থগিত অর্থ মুক্ত হলে— অর্থনীতি দ্রুত চাঙা হতে পারে। মুদ্রার মান স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন (বিদ্যুৎ, পানি, তেল খাত) ত্বরান্বিত হবে। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন সহজ হবে।
কূটনৈতিক গুরুত্ব
এই সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব অর্থ ছেড়ে দেয়, তাহলে তা ইরানের ওপর চাপ কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত, ফলে আসন্ন আলোচনায় এই ইস্যুটি আবারও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।






































