সোমবার । এপ্রিল ২৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


ak-fazlul-haque

ফাইল ছবি

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২৭ এপ্রিল)। ১৯৬২ সালের এই দিনে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি এই রাজনীতিক।

মহৎ এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে শেরেবাংলাকে অবহেলিত কৃষক সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকই প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে বাংলার রাজনীতি ও অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। তাঁর দূরদর্শিতার কারণে কৃষক সমাজের স্বার্থ রাজনৈতিক কাঠামোতে স্থান পেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ফজলুল হক কৃষক-শ্রমিক বান্ধব নীতি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার প্রসারে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসার পথ সুগম করেছে। তিনি ছিলেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা যার মমতা ও রাজনৈতিক আপসহীনতা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে শেরেবাংলার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “বাংলার বাঘ হিসেবে খ্যাত এ কে ফজলুল হক ছিলেন এক অসাধারণ প্রজ্ঞাবান, অসম সাহসী ও বিচক্ষণ এক রাজনীতিবিদ। এ দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর অসামান্য বাগ্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি তাঁকে সমসাময়িক রাজনীতিতে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শেরেবাংলা শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আশার প্রতীক। বিশেষ করে কৃষক ও মেহনতী মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো উপমহাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই আদর্শ ও কর্মজীবন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এ কে ফজলুল হক। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক ছিলেন তিনি এবং ২১ দফা দাবিরও প্রণেতা ছিলেন তিনি। শিক্ষানুরাগী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই জীবন্ত কিংবদন্তি বাঙালির হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।