
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় এখনো সন্তুষ্ট নয় ওয়াশিংটন। তবে তিনি দাবি করেছেন, তেহরান যেকোনোভাবেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।
বুধবার (২৭ মে) মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান খুবই আগ্রহী একটি চুক্তি করতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা সেখানে পৌঁছাতে পারেনি, আর আমরাও এখনো সন্তুষ্ট নই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হয় একটি সমঝোতা হবে, না হলে আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অনেকেই আবারও সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি খসড়া চুক্তির কথিত কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবারও পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খসড়ায় আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ তুলে নেবে। এর বদলে ইরান এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। এ ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমান যৌথভাবে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই খসড়ায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের কোনো বিষয় উল্লেখ ছিল না।
তবে হোয়াইট হাউস দ্রুতই সেই তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই জানিয়েছিল, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এতে দ্রুত একটি চুক্তি হওয়ার জোর গুঞ্জন তৈরি হয়। কিন্তু পরে তেহরান জানায়, কোনো সমঝোতা ‘এখনই আসছে না’। একই সময়ে ট্রাম্পও বলেন, তিনি তার আলোচকদের ‘তাড়াহুড়া না করতে’ নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দিন কয়েক আগে বলেছিলেন, আলোচনায় ‘কিছু অগ্রগতি ও আগ্রহ’ দেখা গেছে। তবে আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
যদিও ট্রাম্প ও রুবিও দুজনেই আলোচনায় আশাবাদ দেখিয়েছেন, তবুও দুই দেশের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং কার্যত বন্ধ করে দেয় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।
পরে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর অগ্রগতিসহ এবং অগ্রগতি ছাড়া দুই পক্ষের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।
এর মধ্যেই সোমবার যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌযানে হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাহিনী সমুদ্রে মাইন পেতে চেষ্টা করছিল, তাই আত্মরক্ষার জন্য এই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে তেহরান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিযোগ করেছে।













































