cosmetics-ad

রোহিংগা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর বিষেধাগার সুচি’র

base_1480750360-myanmar

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে মুসলিম এবং বৌদ্ধদের মধ্যে অসন্তোষে ইন্ধন যোগানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অভিযুক্ত করেছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি। শুক্রবার সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘চ্যানেল নিউজ এশিয়াকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের জাতিগত জটিলতার বিষয়টি অনুধাবনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এক হামলার প্রেক্ষাপটেই সামরিক অভিযানটি শুরু হয়েছিল।

গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি ফাঁড়িতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই হামলার জন্য মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করে আসছে দেশটির সরকার। ঘটনার পর থেকে রাখাইনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। এতে এ পর্যন্ত ১৩০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। অভিযান থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম।

চ্যানেল নিউজ এশিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সু চি বলেন, ‘উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের সহায়তা করলে এবং উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অধিকতর ভালো সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখলে আমি তাদের প্রশংসা করতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা সত্ত্বেও সবাই পরিস্থিতির শুধু নেতিবাচক দিক তুলে ধরলে তাতে কোনো লাভ হয় না।’

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন আট মাসের সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য কিছুই করছেন না বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখোমুখিও হচ্ছেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমারের আচরণ ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান- মালয়েশিয়া সরকারের এমন মন্তব্যের পর সু চি তার প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগে মালয়েশীয় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি নির্দিষ্ট জাতিকে বিতাড়িত করা আসলে জাতিগত নির্মূল। এই চর্চা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই বন্ধ করতে হবে।’

গত ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যের হামলার পর থেকে সেখানে মানবিক সাহায্য প্রেরণও বন্ধ রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো পর্যব্ক্ষেক বা গণমাধ্যমের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, সেনারা রাজ্যটিতে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করছে, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে এবং সাধারণ লোকদের হত্যা করছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান