sentbe-top

মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র

north-korea-missileউত্তর কোরিয়া সর্বোচ্চ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার ওই আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা সফল হয়েছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং। খবর বিবিসি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করা হয়েছে যে, পিয়ংইয়ং পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে তাদের মিশন অর্জন করেছে।

স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে হুয়াসং-১৫ মিসাইলটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এ পর্যন্ত পরীক্ষা চালানো মিসাইলের মধ্যে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী ও আধুনিক বলে দাবি করা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া এর আগেও আরো বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। তবে বুধবারের ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে জাপানের সাগরে পড়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪ হাজার ৪৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে বুধবার সকালে প্রায় ৫৩ মিনিট পরে ৯৬০ কিলোমিটার দূরে জাপানের জলসীমায় পড়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সফল হওয়ার পর গর্বের সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন যে, অবশেষে শক্তিশালী পরমাণু দেশ হিসেবে আমরা আমাদের মিশন সম্পন্ন করতে পেরেছি।

কেসিএনএর খবরে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তিধর এবং শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বিশ্বের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে উত্তর কোরিয়া।

সেখানে বলা হয়েছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী পারমাণবিক নীতিমালার হুমকির বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো দেশ উত্তর কোরিয়ার স্বার্থে বিঘ্ন না ঘটাবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটা কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় বলেও ঘোষণা দিয়েছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় এটাই সবচেয়ে আধুনকি ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে কোরীয় দ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পিয়ংইয়ং।

ওই একই মাসে দেশটি তাদের ষষ্ঠ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও একের পর এক পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।

সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনায় একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। জেমস ম্যাটিস বলেছেন, এর আগে যতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেণ করা হয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এবং এটাই সবচেয়ে আধুনিক।

উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার এমন আচরণ তারা সঠিকভাবে মোকাবেলা করবে।মিসাইলটি যখন আকাশে ছিল তখনই ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, তারা বিষয়টি দেখবে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস বলছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। যদি এটি উন্নত ট্রাজেক্টরি সম্পন্ন হয় তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো স্থানে পৌঁছাতে পারে।

তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্রে হালকা কোনো মক ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করছে তারা। সেক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এত দূরত্বে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব নাও হতে পারে কারণ বেশি দূরত্বে এত ওজনের পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করা সম্ভব নয়। তবে উত্তর কোরিয়ার দাবি, হুয়াসং-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম কারণ এটি দীর্ঘ মাত্রার ভারী ওয়ারহেড সম্পন্ন।

sentbe-top