উত্তর কোরিয়া, রাশিয়ার চেয়ে ট্রাম্পকে বড় হুমকি মনে করেন জার্মানরা

putin-merkel-trumpউত্তর কোরিয়া, রাশিয়া কিংবা তুরস্কের কর্তৃত্ববাদী নেতাদের চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি মনে করেন জামার্নরা। কোয়ারবার ফাউন্ডেশনের এক জরিপের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র সম্পর্কিত নীতিগুলোর শীর্ষে ছিল জামার্নির শরণার্থী সংকট। জরিপে বলা হয়েছে, আশ্রয় প্রার্থীদের ঢল এবং পরিস্থিতি সামলাতে জার্মানির সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির ২৬ শতাংশ নাগরিক।

তবে কোয়ারবার ফাউন্ডেশনের এই জরিপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির সম্পর্ক রাখার বিষয়টিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেন জার্মানরা।

জরিপে অংশ নেয়া ১৯ শতাংশ জার্মান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ট্রাম্পকে দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন। জার্মানির পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পর তুরস্ককে ১৭ শতাংশ, উত্তর কোরিয়াকে ১০ শতাংশ ও রাশিয়াকে ৮ শতাংশ মানুষ চ্যালেঞ্জ মনে করেন।

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব নেয়ার পর প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ব্যাপারে ছয় বিশ্বশক্তির চুক্তিতে অনুমোদন প্রত্যাখ্যান, জার্মানির বাণিজ্যিক ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে তাদের অবদানের সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড ও সমালোচনার জবাবে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল চলতি বছরের শুরুর দিকে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনোভাবেই নির্ভরশীল হবে না বার্লিন। এমনকি ভাগ্য নিজের হাতে গড়তে ইউরোপের নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান।

কোয়ারবার ফাউন্ডেশনের ওই জরিপ গত অক্টোবরে পরিচালনা করা হয়। এতে বিভিন্ন বয়সের প্রায় এক হাজার জার্মান অংশ নেন। জরিপে অংশ নেয়া ৫৬ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির সঙ্গে সম্পর্ক রাখাকে খারাপ অথবা খুবই খারাপ হিসেবে মতামত দিয়েছেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে জার্মানির সক্রিয় ভূমিকার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রায় ৫২ শতাংশ। তারা বলছেন, যুদ্ধ পরবর্তী সংবরণের নীতি এখনো মেনে চলা উচিত বার্লিনের।

সূত্র : রয়টার্স।