
সুস্থ থাকতে পানির বিকল্প নেই, এ কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ‘কীভাবে’ এবং ‘কখন’ পানি খাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে আপনার কিডনির দীর্ঘায়ু। অনেক সময় আমরা না জেনেই এমন কিছু ভুল করি যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে অঙ্গটিকে অকেজো করে দেয়। জেনে নিন পানি পানের সেই মারাত্মক ভুলগুলো সম্পর্কে:
দাঁড়িয়ে পানি পান করার অভ্যাস
অনেকেই তাড়াহুড়ো করে দাঁড়িয়ে পানি পান করেন। চিকিৎসকদের মতে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি তীব্র বেগে পাকস্থলীতে গিয়ে পড়ে এবং ছাঁকন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। এতে রক্তে থাকা দূষিত পদার্থ কিডনিতে জমা হওয়ার সুযোগ পায়, যা পাথর হওয়া বা কিডনি ড্যামেজের ঝুঁকি বাড়ায়।
অতিরিক্ত পানি পান
“বেশি পানি খেলে কিডনি ভালো থাকে”—এই ধারণা সব সময় সঠিক নয়। শরীরের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি পানি পান করলে কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। একে বলে ‘হাইপোনাট্রেমিয়া’, যেখানে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যায় এবং কিডনি সেই অতিরিক্ত পানি শরীর থেকে বের করতে হিমশিম খায়।
তৃষ্ণা পেলেও পানি না খাওয়া
কিডনি নষ্ট হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো দীর্ঘ সময় পানিশূন্য থাকা। শরীরে পানির অভাব হলে কিডনি রক্ত ঠিকমতো ফিল্টার করতে পারে না, ফলে টক্সিন শরীরের ভেতরেই থেকে যায়। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হওয়া মানেই আপনার কিডনি বিপদের সংকেত দিচ্ছে।

প্রস্রাব চেপে রাখা
পানি পান করার পর যখন মূত্রাশয় পূর্ণ হয়ে যায়, তখন দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে কিডনির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। এটি ব্যাকটিরিয়াল ইনফেকশন বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) তৈরি করে, যা সরাসরি কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সফট ড্রিঙ্কস দিয়ে তৃষ্ণা মেটানো
অনেকে পানির বদলে কোল্ড ড্রিঙ্কস বা এনার্জি ড্রিঙ্কস দিয়ে তৃষ্ণা মেটান। এই পানীয়গুলোতে থাকা উচ্চমাত্রার চিনি এবং ক্যাফেইন কিডনির রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে দেয় এবং পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
কিডনি বাঁচাতে সঠিক নিয়ম:
- সব সময় বসে এবং ধীরে ধীরে ছোট চুমুকে পানি পান করুন।
- একবারে অনেক পানি না খেয়ে সারা দিন অল্প অল্প করে পানি খান।
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ লিটার পানি প্রয়োজন, তবে শরীরের গঠন ও কাজের ধরন বুঝে এটি পরিবর্তন হতে পারে।
- রাতে ঘুমানোর আগে খুব বেশি পানি না খেয়ে দিনের বেলা বেশি পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন।
আপনার সামান্য সচেতনতাই পারে একটি মূল্যবান অঙ্গকে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে। আজই নিজের অভ্যাস বদলে ফেলুন।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প









































