
ট্রাম্প সামরিক অভিযানের বড় সাফল্যের দাবি করেছেন যা নতুন এই তথ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে জানা গেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযানের বড় সাফল্যের দাবি করেছেন। যা নতুন এই তথ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পাঁচজন ব্যক্তি জানান, ইরানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূগর্ভস্থ টানেল বা বাঙ্কারে ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস অথবা চাপা পড়ে থাকতে পারে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন সক্ষমতাও সম্ভবত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা শুরুর এক মাস পর করা এই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, তেহরানের এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে এবং পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ৯৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সমস্যা হলো হরমুজ প্রণালি। ধরুন আমরা অসাধারণ কাজ করলাম এবং বললাম ৯৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছি। কিন্তু বাকি ১ শতাংশও গ্রহণযোগ্য নয়—কারণ সেই ১ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র যদি এক বিলিয়ন ডলারের কোনো জাহাজে আঘাত হানে, সেটাই বড় ক্ষতি।’
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের কত শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ধ্বংস হয়েছে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে ইসরায়েলে পৌঁছাতে সক্ষম প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।
একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এখন পর্যন্ত ৩৩৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার “নিষ্ক্রিয়” করা হয়েছে, যা ইরানের মোট উৎক্ষেপণ সক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত দ্রুত কমে আসছে বলেও সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চার সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
প্রতিবছর মাত্র কয়েকশ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হয়। পেন্টাগন তাদের মজুতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ না করলেও এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা টমাহকের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে শেষ হয়ে এসেছে।
তবে সীমিত মজুত থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানার পরিকল্পনা তৈরি করছে বলে বৃহস্পতিবার অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে স্থলবাহিনী মোতায়েন ও ব্যাপক বোমা হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের খারগ দ্বীপে অভিযান বা অবরোধ আরোপ। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপ থেকেই রপ্তানি হয়। এছাড়া কেশম দ্বীপের কাছে অবস্থিত ছোট দ্বীপ লারাক দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া আবু মুসা ও এর কাছাকাছি দুটি ছোট দ্বীপ—গ্রেটার তুনব ও লেসার তুনব—দখলের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র ভাবছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিষ্ঠার ঠিক আগে ইরানের সাবেক শাহ আবু মুসা দ্বীপটি দখল করেন। দ্বীপটির ওপর এখনও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবি রয়েছে।
পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের তেল বহনকারী জাহাজগুলো জব্দ করার সম্ভাবনাও যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে।
মিডল ইস্ট আই







































