শনিবার । মে ৯, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ৮ মে ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

কক্সবাজারের আকাশে রহস্যময় আলোর রেখা!


lighting

সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আকাশে হঠাৎ এক রহস্যময় দীর্ঘ উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা গেছে। এই বিরল দৃশ্য সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এটি আসলে ভারতের পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দৃশ্য।

শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজারের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় পর্যটকরা প্রথম এই আলোর রেখা দেখতে পান। আকাশজুড়ে দীর্ঘ এক উজ্জ্বল রেখা ধীরগতিতে এগিয়ে যেতে দেখে উপস্থিত অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পর্যটক আব্দুর রহিম বলেন, “হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। দেখতে অনেকটা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মিসাইলের মতো মনে হচ্ছিল।” কেবল কক্সবাজার নয়, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, পটুয়াখালী ও বাগেরহাট থেকেও অনেকে এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রাকৃতিক বা আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনা নয়। বিমানবাহিনীর একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারত আগে থেকেই বঙ্গোপসাগরে তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়ে রেখেছিল। ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় এ জন্য বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা ছিল। ওড়িশার ড. এ পি জে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আকাশে এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখার পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ এটিকে ‘মহাজাগতিক ঘটনা’ আবার কেউ ‘ধূমকেতু’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছিলেন। খাগড়াছড়ি থেকে সমির মল্লিক নামে একজন লিখেছেন, “কয়েক মিনিট আগে দীঘিনালার আকাশে এটা দেখা গেছে। ধূমকেতুর মতো মনে হলো।” চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা শ্রমিকরাও এই উজ্জ্বল আলোর সাক্ষী হয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওড়িশা উপকূল থেকে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এই পরীক্ষার প্রভাব ছিল। আগেভাগে ‘নোটাম’ জারি থাকায় আকাশপথে চলাচলেও বিশেষ সতর্কতা ছিল। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া না গেলেও নিরাপত্তা সূত্রগুলো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে নিশ্চিত করেছে।