
হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ হলো লিভারের এমন এক ধরনের প্রদাহ যা মূলত ভাইরাসজনিত
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের শরীরের পাওয়ার হাউস বা লিভারের সুস্থতা অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের অজান্তেই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস বা পানির মাধ্যমে শরীরে ঢুকে পড়ে নীরব কিছু ঘাতক। যার মধ্যে হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস অন্যতম। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় বা বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে এই সংক্রমণগুলো জন্ডিস হিসেবে আমাদের কাবু করে ফেলে। একটু সচেতনতা আর সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আমাদের লিভারকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে।
হেপাটাইটিস এ ও ই: কী এবং কেন হয়?
হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ হলো লিভারের এমন এক ধরনের প্রদাহ যা মূলত ভাইরাসজনিত। এই দুটি রোগই সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফেকাল-ওরাল রুট’ বলা হয়।
টয়লেট ব্যবহারের পর ভালোভাবে হাত না ধোয়া বা নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করা
রাস্তার ধারের কাটা ফল, শরবত বা অস্বাস্থ্যকর পানিতে তৈরি বাইরের খোলা খাবার
সরবরাহ করা পানিতে নর্দমার ময়লা মিশে যাওয়া বা না ফুটিয়ে পানি পান করা

খাবার আগে এবং বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন
প্রতিকারের উপায়
প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই এখানে বড় সমাধান। আপনি যদি নিচের নিয়মগুলো মেনে চলেন, তবে এই ভাইরাসগুলো আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না:
বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা: সবসময় পানি ফুটিয়ে বা ভালো মানের ফিল্টার ব্যবহার করে পান করুন। বাইরে গেলে পরিচিত ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানি ব্যবহার করা নিরাপদ।
টিকা গ্রহণ: হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা দিয়ে নিন। এটি দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দেয়।
হাত ধোয়ার অভ্যাস: খাবার আগে এবং বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ সতর্কতা: হেপাটাইটিস ‘ই’ গর্ভবতী মায়েদের জন্য অনেক সময় মারাত্মক হতে পারে। তাই এই সময়ে বাইরের খাবার বা পানি পানের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
খাদ্যাভ্যাস
জন্ডিসে আক্রান্ত হলে বা লিভার ভালো রাখতে খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ পরিবর্তন আনা জরুরি:
ভাজা পোড়া, অতিরিক্ত তেল-মশলা বা রিচ ফুড পুরোপুরি বাদ দিন। পরিবর্তে পেঁপে, লাউ বা ঝিঙের মতো হালকা সবজির ঝোল এবং জাউ ভাত খান।
দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করুন। ডাবের পানি শরীরকে রিহাইড্রেট করতে সাহায্য করে। তবে বাইরের আখের রস এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ তা অনেক সময় দূষিত হতে পারে।
শরীরিক দুর্বলতা কাটাতে মাছ, মুরগির মাংস এবং ডাল খাদ্যতালিকায় রাখুন। ভিটামিন-সি যুক্ত ফল যেমন— লেবু বা কমলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
চিনি ও মিষ্টি: অতিরিক্ত মিষ্টি বা প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলুন। ঘরে তৈরি টাটকা ফলের রস চিনি ছাড়া খাওয়ার চেষ্টা করুন।
চিকিৎসা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের নানা ধরনের অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ শনাক্ত করা যায়। রক্তের HBsAg পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। এছাড়াও উপসর্গ দেখে লিভারের Ultra Sound, HBsAg, SGOT, ALT, BILLIRUBIN , AST CT Scan, Endoscopy ইত্যাদির মাধ্যমেও রোগের জটিলতা নির্ণয় করা হয়। এ এবং ই ভাইরাস সংক্রমণজনিত হেপাটাইটিস বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আপনা–আপনি ভালো হয়ে যায়, চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না।
হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ সাধারণত সঠিক বিশ্রাম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেরে যায়। তবে চোখের রঙ অতিরিক্ত হলুদ হওয়া, ঘন ঘন বমি বা পেটে ব্যথা হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, সচেতন লিভার মানেই সুস্থ জীবন।













































