
ছবি: সংগৃহীত
বড়দিন ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ তিন দিনের টানা বন্ধের সুযোগে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সৈকতগুলোতে পর্যটকরা ভিড় করে উপভোগ করছেন সমুদ্রের নীল জলে গোসলে ও বালুকাবেলায় বসে বিশ্রাম। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে অনেকেই মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝরনা, ইনানী, রুপসী গোয়ালিয়ার পাহাড় এবং পাটুয়ারটেক পাথুরে সৈকতে সময় কাটাচ্ছেন আনন্দমুখর অবকাশযাপনে।
বগুড়ার গাবতলী থেকে বেড়াতে আসা রাকিব-নুহীন দম্পতি মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকতের সাগরলতা রিসোর্টে উঠেছেন। তারা জানান, শহরের ঘিঞ্জি পরিবেশ থেকে বের হয়ে নিরিবিলি ইনানী সৈকতের শান্ত পরিবেশে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন। এখানকার সাগরের পানি স্বচ্ছ ও নীল, পরিবেশও চমৎকার।
সাগরলতা রিসোর্টের ব্যবস্থাপক শহীদুল আলম জানান, যারা নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তারা শহর ছেড়ে মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকতের রিসোর্টগুলোতে উঠছেন।

তবে টানা ছুটির সুযোগে একাধিক হোটেল-মোটেল পর্যটক থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। কক্সবাজার সাগর পারের হোটেল-মোটেলগুলোর কক্ষ ভাড়া সাধারণত ২–৩ হাজার টাকা হলেও এই সময় তিনগুণেরও বেশি দাবি করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক পর্যটক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। কেউ কেউ ৩ দিনের বাজেট অনুযায়ী বেড়াতে এসে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে গিয়ে একদিনের মধ্যেই ফিরে যাচ্ছেন।
বড়দিন উপলক্ষে শহরের অভিজাত হোটেলগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। শহরের ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অধিকাংশ কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে থার্টি ফাস্ট নাইট এবং ইংরেজি নববর্ষ পর্যন্ত। পর্যটকরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের জন্য শেষ দিনগুলোতে সাগর পারের হোটেলগুলোতে ছুটে আসছেন। পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন চলতি পর্যটন মৌসুমে শত কোটি টাকার বাণিজ্য হবে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, টানা ছুটির কারণে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। মাসের শেষ সময়ে প্রচুর পর্যটক আসায় হোটেল-মোটেলের কক্ষ অগ্রিম ভাড়া হয়ে গেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হোটেল-মোটেল মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি প্রতিরোধে টুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত মনিটরিং করছে। কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল কাজ। কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার হলে নির্ধারিত হেল্পলাইন- ০১৩২০১৬০০০০ নম্বরে যোগাযোগ করলে টুরিস্ট পুলিশের সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।










































