রবিবার । মার্চ ৮, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৭ মার্চ ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

অভ্যন্তরীণ বিদেশি সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা ইরানের


Iran message

দেশের অভ্যন্তরীণ বিদেশি সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ বিদেশি সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিছু “আমেরিকান-জায়নিস্ট ভাড়াটে” ব্যক্তি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্থানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিদেশভিত্তিক “সন্ত্রাসী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক” ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাঠাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এরা ইসরায়েলের হয়ে কাজ করা “পঞ্চম কলাম” হিসেবে দেশের ভেতরে তথ্য সরবরাহ করছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর সংশোধিত আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশটির নাগরিকরা প্রধানত রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন, যদিও এসব মাধ্যমে যুদ্ধের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থাকছে না। অধিকাংশ সময় ইরানের সফল পাল্টা হামলার খবরই তুলে ধরা হচ্ছে।

এর ফলে অনেক মানুষ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিদেশভিত্তিক ফারসি ভাষার কয়েকটি টিভি চ্যানেল দেখে যুদ্ধের খবর জানার চেষ্টা করছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এসব চ্যানেলের সম্প্রচার ব্যাহত করতে যুদ্ধ শুরুর আগেই জ্যামিং সিগন্যাল পাঠানো শুরু করেছে। সরকারের দাবি, এসব মাধ্যম বিরোধী গোষ্ঠীর অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে প্রচারণা চালায়।

শনিবার পাঠানো গণবার্তায় ইরানের পুলিশ বাহিনী “প্রতিরোধী ইসলামি ইরানের জনগণ”-কে উদ্দেশ করে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য ধারণ করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং তা বন্ধ করতে হবে। পুলিশ আরও দাবি করে, এসব তথ্য বিদেশি “প্রভুদের” কাছে পাঠানো হচ্ছে।

দেশটির দুই সামরিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে অপরাধীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ প্রধান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া বাড়িঘরে চুরি বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের কারণে অনেক মানুষ রাজধানী তেহরানসহ বড় শহর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের জনগণকে ঘরে থাকার এবং উপযুক্ত সময় এলে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ইরানের সামরিক বাহিনী—বিশেষ করে আইআরজিসি, সেনাবাহিনী ও পুলিশকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বানও জানিয়েছেন, যা তেহরান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ সরকারপন্থীদের রাস্তায় উপস্থিত থাকতে এবং মসজিদে জড়ো হয়ে দেশটির নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জন্য শোক প্রকাশ ও শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসব সমাবেশের সরাসরি সম্প্রচারও দেখানো হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে হওয়া বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছিল। সরকার এসব ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদপুষ্ট “সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারীদের” দায়ী করলেও জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করেছে।

এদিকে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সাম্প্রতিক বার্তায় ইঙ্গিত মিলেছে যে সংঘাত শিগগিরই থামার সম্ভাবনা নেই। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো না হলে তারা প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে আক্রমণ বন্ধ করবে। অন্যদিকে ট্রাম্প “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরও ইরানি নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন।