
ফাইল ছবি
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা না গেলেও তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে টাঙ্গাইল রেলস্টেশন ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ধলাটেংগর নামক স্থানে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। বাসটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়লে কয়েকজন যাত্রী নিচে নেমে আসেন এবং পাশেই অবস্থিত রেললাইনের ওপর গিয়ে বসেন।
যাত্রীরা যখন রেললাইনে বসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক সেই সময় দ্রুতবেগে আসা ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই একজন শিশু, দুইজন নারী এবং দুইজন পুরুষ প্রাণ হারান। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ ট্রেন চলে আসায় তারা সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, নিহত পাঁচজনই একে অপরের আত্মীয় এবং একই পরিবারের সদস্য। বাসের তেল শেষ হয়ে যাওয়ার মতো একটি সাধারণ ঘটনা যে এভাবে একই পরিবারের পাঁচজনের প্রাণ কেড়ে নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরও ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আশপাশের এলাকায় খবর পাঠানো হয়েছে এবং বাসের অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বসে থাকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, এই দুর্ঘটনা সেটি আবারও মনে করিয়ে দিল। ঘটনার পর থেকে ধলাটেংগর এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।









































