
তেহরানে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির—এমন একটি ছবি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় একটি ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ হতে পারে।
বুধবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছায়। ইরানের প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বার্তা ইরানি নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দিতে এসেছেন। মুনিরকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিজে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার দ্বিতীয় দফার ভিত্তি তৈরিতেও কাজ করছেন মুনির।

আল জাজিরা জানিয়েছে, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা পারমাণবিক ইস্যুতে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’র আশা করছেন এবং প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
আলোচনার মূল জটিলতা রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার সময়সীমা এবং ইরানের কাছে থাকা ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ বছর থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, আর এর মাঝামাঝি একটি সমাধান খোঁজা হচ্ছে।
এছাড়া, এই ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হবে, নাকি তা প্রাকৃতিক অবস্থায় নামিয়ে আনা হবে এসব বিষয়েও আলোচনা চলছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে
ইসলামাবাদে গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’ শুরু করে। মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি মূল বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছেন- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালায়। একই সঙ্গে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতও নতুন করে শুরু হয়েছে। ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা বন্ধ থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে গেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি ‘দ্বিমুখী কৌশল’, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তির বিরোধীদের প্রভাব কমানোর চেষ্টা চলছে।
চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আগামী দুই দিন হবে অসাধারণ’ এবং ইরান যুদ্ধ ‘প্রায় শেষের দিকে’।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা ‘গঠনমূলক ও চলমান’ এবং শিগগিরই ইসলামাবাদে আরও বৈঠক হতে পারে। তবে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এখনো হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর রয়েছে। ইরান এটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইরানের সামরিক কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে ইরান লোহিত সাগর, উপসাগর ও ওমান সাগরে বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে। সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
‘আশা’ থাকবেই









































