রবিবার । এপ্রিল ১৯, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

রংপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড শতাধিক ঘরবাড়ি


rangpur-cyclone

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে শুরু হওয়া টানা তিন ঘণ্টার ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। তীব্র বাতাসে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি, আলমপুর ও কুর্শা ইউনিয়নে ঝড়ের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। হাড়িয়ারকুঠি ও আলমপুরে বেশ কয়েকটি বসতঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং অসংখ্য কাঁচা ঘর মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ২ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে অনেক পরিবারকে রাতভর খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় কাটাতে দেখা গেছে।

কুর্শা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তুহিন জানান, তার ওয়ার্ডের অন্তত ২০টির বেশি কাঁচা ঘরবাড়ি ঝড়ে চুরমার হয়ে গেছে।

ঝড়ের কবলে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পরে স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সহায়তায় সড়ক পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়।

এদিকে, তারাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

ঝড়ের সময় প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বাতাসের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার নির্ঘুম ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে রাত পার করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তৎপর রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।