sentbe-top

কুড়িগ্রামে বিএনপি সমর্থকের গরু কেটে আ’লীগ নেতার ভূরিভোজ

cow
ফাইল ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেরদিন ভোররাতেই এক বিএনপি সমর্থকের দু’টি গরু জোরপূর্বক জবাই করে নেতাকর্মীদের ভূরিভোজ করানোর অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সুরুজজামাল এর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বিএনপি সমর্থক আবুল কাশেমের স্ত্রীর অভিযোগ, সুরুজজামাল নিজে উপস্থিত থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দিয়ে বাড়ির লোকজনকে মারধর করে গরু দু’টি ছিনিয়ে নিয়ে যান। রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাটি জানার কথা নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বিএনপি সমর্থক আবুল কাশেমের স্ত্রী সাজেদা খাতুনের অভিযোগ, গোয়ালঘর থেকে গরু দু’টি বের করার সময় বাধা দিলে তাকে সহ তার ছেলে মঞ্জু ও ছেলের বৌকেও মারপিট করা হয়। এ ঘটনায় মঞ্জু গুরুতর আহত হলে তাকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর নতুন গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম (৫৫) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমানের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করছিলেন। ফলে ঐ ইউনিয়নের ওয়ার্ড এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। হয়রানির ভয়ে আবুল কাশেম গা ঢাকা দেন।

কিন্তু, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন নির্বাচিত হলে রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সুরুজজামাল এর নেতৃত্বে মাঝ রাতেই আবুল কাশেমের বাড়িতে যান ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা আবুল কাশেমের গোয়াল ঘরে ঢুকে দু’টি গরু বের করে নিয়ে যান। বিষয়টি টের পেয়ে আবুল কাশেমের স্ত্রী সাজেদা খাতুন, ছেলে ও ছেলের বৌ বাধা দিতে আসলে তাদেরকে মারধর করা হয়।

পরে গরু দু’টিকে সুরুজজামালের বাড়িতে রোববার ভোররাতে জবাই করে বিরিয়ানি রান্না করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের খাওয়ানো হয়।

বিষয়টি জানার পর কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন ওই দু’টি গরুর বাজার মূল্য পরিশোধ করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আবুল কাশেমের স্ত্রী আমার কাছে অভিযোগ করেছে, আমি বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছি। যদি এমনটি ঘটে থাকে তাহলে যারা এ কাজ করেছে তারা মোটেও ঠিক কাজ করেনি।’’

অভিযুক্ত সুরুজ্জামাল গরু ছিনিয়ে আনার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে। গরু দুটির দাম হিসেবে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্থানীয় বিএনপি’র লোকজনকেও দাওয়াত করে খাওয়ানো হয়েছে।’

তবে ওই মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। এখন পর্যন্ত আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌজন্যে- ঢাকা ট্রিবিউন

sentbe-top