
ছবি: সংগৃহীত
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এক বুক আশা নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন নোয়াখালীর আবদুল হক। দীর্ঘ ২৫ বছর বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন। লক্ষ্য ছিল একটাই—পরিবারকে একটু সচ্ছলতা দেওয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন পূরণ হলেও, স্বপ্নদ্রষ্টা নিজে আর জীবিত দেশে ফিরতে পারলেন না। সৌদি আরবের জেদ্দায় স্ট্রোক করে চিরবিদায় নিলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোরে জেদ্দায় নিজ বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়। আবদুল হক নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সিরাজ মাঝির বাড়ির মো. মোস্তফার ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের জামাতা সাইফ আল হাসান জানান, তার শ্বশুর দীর্ঘ ২৫ বছর প্রবাস জীবনে ছিলেন। শেষ চার বছর তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজের সংকট, নিয়মিত বেতন না পাওয়া এবং পারিবারিক নানা দুশ্চিন্তায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার ইচ্ছে ছিল আরও কিছুদিন কাজ করে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না, এখন তার ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে নিথর দেহ।
আবদুল হকের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে পরিবার আবেদন করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।






































