
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ডে বর্তমানে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দেশটিতে বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় হার প্রায় ৬ শতাংশের তুলনায় অনেক উঁচু। এই পরিস্থিতি দেশে বসবাসরত ও অধ্যয়নরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিনল্যান্ডে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ সুদের হার শিল্পখাতে বিনিয়োগ কমিয়েছে। একই সঙ্গে আইটি, প্রযুক্তি ও নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া ফিনিশ বা সুইডিশ ভাষায় দক্ষতা না থাকায় অনেক চাকরিতে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়ছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাপ্লাইড সায়েন্স কলেজে পড়াশোনা করছেন অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তারা পার্টটাইম কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ এবং পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফুলটাইম চাকরির পরিকল্পনা করে। তবে বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণে এই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি শুভ বলেন, “আগে পার্টটাইম কাজ পাওয়া তুলনামূলক সহজ ছিল। এখন একই পদের জন্য অনেক আবেদনকারী থাকায় চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। ভাষা এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতার অভাব আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”
আরেক শিক্ষার্থী ফেরদৌস আহমেদ মুবিন বলেন, “ডিগ্রি শেষ করে ফিনল্যান্ডে স্থায়ীভাবে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প দক্ষতা অর্জন ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে সুযোগ খোঁজার কথাও ভাবতে হচ্ছে।”
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ফিনল্যান্ডে প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে ফিনিশ ভাষায় দক্ষতা অর্জন, স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ার সেক্টর, গ্রিন এনার্জি এবং ডিজিটাল স্কিলের মতো চাহিদাসম্পন্ন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। এছাড়া ইন্টার্নশিপ, প্রজেক্ট ও পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ে অংশগ্রহণ ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে বিকল্প সুযোগ খোঁজাও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।







































