সোমবার । এপ্রিল ২০, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

গ্রিসে উদ্ধার ৫৩৯ অভিবাসীর ৪৩৭ জনই বাংলাদেশি


grees-bangladeshi

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসের গাভদোস দ্বীপের উপকূলের কাছে একটি মাছ ধরার নৌকা থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৩৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে ৪৩৭ জনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির লিমেনার্কিও বা কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোরে আগিয়া গ্যালিনির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল থেকে এসব অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের রেথিম্নোর কিত্রেনোসি ভবনে নেওয়া হয়। সেখানে হেলেনিক কোস্ট গার্ড সদস্যদের তত্ত্বাবধানে উদ্ধারকৃতদের নিবন্ধন ও পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে চারজন নারী ও দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু রয়েছে। তবে বেশিরভাগই পুরুষ।

রেথিম্নোর কোস্ট গার্ড প্রধান কিরিয়াকোস পাত্তাকোস জানান, নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন তাদের মূল লক্ষ্য মানবপাচার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা এবং উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা।

রেথিম্নো পৌরসভার উপ-মেয়র (নাগরিক সুরক্ষা) ইয়োরগোস স্কোরদিলিস বলেন, এত বিপুলসংখ্যক অভিবাসী সামাল দেওয়ার মতো অবকাঠামো রেথিম্নোর নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে স্থানীয় প্রশাসন বাড়তি চাপে পড়ছে।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, সোমবার ৩০০ জন অভিবাসীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে এবং বাকি অভিবাসীদের পরবর্তী সপ্তাহে ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হবে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ৪৩৭ জন বাংলাদেশি, ৪৬ জন পাকিস্তানি, ৩৪ জন মিশরীয়, ১২ জন ইরিত্রিয়ান (এর মধ্যে চার নারী ও দুই শিশু), পাঁচজন সোমালিয়ান, দুইজন সুদানি, দুইজন ইয়েমেনি এবং একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক রয়েছেন।

কোস্ট গার্ডের ধারণা, এসব অভিবাসী লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে মানবপাচারকারীদের সহায়তায় অন্তত ৩৬ ঘণ্টার ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা করে গ্রিসে পৌঁছান।

এ বিষয়ে গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তাদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পৌঁছায়নি।