রবিবার । মার্চ ৮, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৫ মার্চ ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

পেন্টাগনের প্রস্তুতি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে


Iran war

সামরিক পরিকল্পনা এখন শরৎকাল পর্যন্ত, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে

ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন গোয়েন্দা কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামরিক পরিকল্পনা এখন শরৎকাল পর্যন্ত, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পেন্টাগনের কাছে অতিরিক্ত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় অবস্থিত তাদের সদর দপ্তরে মোতায়েন করার অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অতিরিক্ত জনবল অন্তত ১০০ দিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা করবে এবং প্রয়োজনে তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।

এই অনুরোধকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুদ্ধের জন্য গোয়েন্দা জনবল বাড়ানোর প্রথম প্রকাশ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে ওয়াশিংটন শুরুতে জনগণের সামনে যে সময়সীমা তুলে ধরেছিল, বাস্তবে যুদ্ধ তার চেয়ে অনেক দীর্ঘ হতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এটি ‘এর চেয়েও অনেক বেশি সময়’ ধরে চলতে পারে।

যুদ্ধের প্রস্তুতিতে অপ্রস্তুত ওয়াশিংটন
পেন্টাগনের ভেতরে দ্রুত জনবল ও সম্পদ জড়ো করার তৎপরতা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে যে সংঘাত শুরু করা হয়েছে তার ব্যাপ্তি সম্পর্কে ওয়াশিংটন পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।

এ ধরনের বড় সামরিক অভিযান সাধারণত কয়েক মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পেন্টাগনের ভেতরে হঠাৎ করে শুরু হওয়া তৎপরতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কর্মকর্তারা ইরানের ওপর হামলার পরিণতি ঠিকভাবে অনুমান করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পলিটিকো’র আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টাদের অনেকেই চাইছিলেন আগে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালাক, এরপর যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব হামলা শুরু করুক। শেষ পর্যন্ত ঠিক সেই ক্রমেই ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

হতাহত ও যুদ্ধের বিস্তার
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত সহস্রাধিক নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

সংস্থাটি জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৬৫ জনের বেশি শিশুও রয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় তারা নিহত হয়, যা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি।

অন্যদিকে সেন্টকম জানিয়েছে, কুয়েতে ইরানের হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের রাজনীতিতে প্রভাব
এই সংঘাত এখন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তার রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যেও এ নিয়ে বিভাজন দেখা দিয়েছে, কারণ তাদের অনেকেই ইসরায়েলের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েলের পদক্ষেপই যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম ইসরায়েল একটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আমরা এটাও জানতাম যে এর ফলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা হতে পারে। তাই তারা হামলা চালানোর আগেই আমরা তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘৪০ বছর ধরে যা করার স্বপ্ন দেখেছি, এখন তা বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে। আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেটিই আমরা এখন বাস্তবায়ন করছি।’

মিডেল ইস্ট আই অবলম্বনে