রবিবার । মার্চ ৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৮ মার্চ ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

নরওয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ


নরওয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূতাবাস এলাকা

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত সামরিক আগ্রাসনের মধ্যে স্থানীয় সময় রোববার (৮ মার্চ) রাত প্রায় ১টার দিকে পশ্চিম ওসলোতে মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সের কাছে একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

নরওয়ের পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, কী কারণে বিস্ফোরণটি হয়েছে বা এতে কারা জড়িত ছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশের মুখপাত্র মিকাইল ডেলেমির দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, একটি বিস্ফোরণ মার্কিন দূতাবাসে আঘাত করেছে।’

তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণটি দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগের প্রবেশদ্বারের কাছে ঘটেছে। পুলিশ আরও বলেছে, তারা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশের মুখপাত্র জানান, বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজে অভিযান চলছে। তবে এলাকায় আর কোনো বিস্ফোরক বস্তু পাওয়া যায়নি।

অসলোর মার্কিন দূতাবাস নিয়মিত অফিস সময়ের বাইরে হওয়ায় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এদিন প্রথমবারের মতো তারা তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার, তেল পরিশোধনাগার ও পানি শোধনাগারে আঘাত করেছে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারী দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এর গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এর মূল্য দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো ধরনের সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও বাড়ানো এবং সেই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সব নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

শনিবার মিয়ামিতে ইরানি হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘কোনো আলোচনায় আগ্রহী নন। যুদ্ধ তখনই শেষ হতে পারে, যখন তেহরানের আর কার্যকর কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না বা ক্ষমতায় কোনো নেতৃত্ব অবশিষ্ট থাকবে না।’

উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ—কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ক্ষমা চাওয়া ও হামলা বন্ধের আশ্বাস দেয়ার পরও ইরান থেকে আরও কিছু হামলা হয়েছে।

সংঘাতের শুরু থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো হামলা চলছিল। তবে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে হামলা চালানো না হলে আমাদের হামলা বন্ধ হবে। তেহরান এখন বলছে, উপসাগরীয় ঘাঁটিগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর মাধ্যমে ট্রাম্প সেই উদ্যোগ নষ্ট করেছেন।