
ফাইল ছবি
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা সামরিক হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে ফের বড় ধরনের লাফ দিয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। কোনো শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হলে ইরানের ওপর আরও ‘খুব কড়া হামলা’ চালানো হবে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন কঠোর হুমকির পর বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ২ ডলার বেশিতে লেনদেন শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬৫ ডলার বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৮৩ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ০৩ ডলারে থিতু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই ট্রাম্পের নতুন হামলার হুঁশিয়ারিতে দুপুরের দিকে তেলের দাম এক লাফেই প্রায় ৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের দেওয়া ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের পর দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী অত্যন্ত গোপনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদ পাহারা দিয়ে বের করে এনেছে। বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদা রয়েছে এবং ট্রাম্পের মতে, এই গোপন মার্কিন অভিযানের কারণেই তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই পদক্ষেপ না নিলে তেলের দাম এখন ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের বদলে সরাসরি ২৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকত।’ এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করার জন্য তেহরানকে ‘চরম মূল্য দিতে হবে’।









































