শনিবার । জুন ১৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক ওয়ার্ল্ডকাপ গোল গ্রাফ ১২ জুন ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

আমি ব্রাজিল আর আমার মেয়ে আর্জেন্টিনার ফ্যান: আঁখি আলমগীর


Ankhi Alamgir

আঁখি আলমগীর

ফিফা বিশ্বকাপ উন্মাদনা শুরু হয়ে গেছে বাংলাদেশেও। ১২ জুন মধ্যরাতে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠেছে ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বড় এই আসরের। দেশের তারকাদের মধ্যেও বিশ্বকাপ নিয়ে দারুণ মাতামাতি দৃশ্যমান। বিশ্বকাপ ফুটবলের এই মহোৎসবে নিজের প্রিয় দল এবং ব্যক্তিগত নানা ভাবনা ও আবেগ নিয়ে কথা বলেছেন সঙ্গীতাঙ্গনের প্রিয় মুখ আঁখি আলমগীর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহানুর রহমান সোহাগ

বিশ্বকাপে আপনার প্রিয় দল কোনটি?
আমি ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক। আসলে ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসাটা আমার পরিবার থেকেই আসা। আমার বাবা (নায়ক আলমগীর) ব্রাজিলের সমর্থক ছিলেন, আর বাবার খেলা দেখা দেখেই ফুটবলের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই সুবাদেই আমিও ব্রাজিলের ফ্যান হয়ে যাই। তবে হ্যাঁ, নিজের দল ব্রাজিল হলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার কারণে অন্যান্য দলের খেলাও সমান আগ্রহ নিয়ে দেখা হতো।

ফুটবল খেলা নিয়ে কখনো কারো সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন কি?
সত্যি বলতে, আমাদের পরিবার বা পরিচিত মহলে খেলা নিয়ে কখনো কোনো অপ্রীতিকর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়নি। আমরা আসলে সেই ঘরানার উগ্র ফ্যান নই যারা খেলা নিয়ে মারামারি বা বিবাদে জড়াবে। আমাদের কাছে খেলাটা হলো নিখাদ বিনোদন। আমরা খেলাটাকে উপভোগ করি এবং আনন্দ পাওয়ার জন্যই খেলা দেখতে ভালোবাসি। একটা মজার বিষয় বলি— আমার নিজের মেয়ে কিন্তু আর্জেন্টিনার ফ্যান, আর আমি ব্রাজিলের! একই ঘরে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থক থাকা সত্ত্বেও আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা হয় না। আমরা আনন্দ নিয়ে একসাথে বসেই খেলা উপভোগ করি।

এবার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন কে হবে বলে আপনি মনে করেন?
একজন খাঁটি ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে মনের ভেতর সবসময়ই একটা চাওয়া থাকে। আমি মনে-প্রাণে চাই এবার যেন ব্রাজিলই চ্যাম্পিয়ন হয় এবং তাদের ঘরে হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফিটা আসুক। সাম্বার দেশের ফুটবলাররা যখন নিজেদের চেনা ছন্দে খেলে, তখন তাদের আটকানো যেকোনো দলের জন্যই কঠিন।

সুযোগ পেলে আপনি কোন ফুটবলারের সঙ্গে দেখা করতে চাইবেন?
ফুটবলারদের সাথে দেখা করার প্রসঙ্গটি যদি অনেক বছর আগে আসত, তবে আমি নির্দ্বিধায় ফুটবলের রাজা পেলের সাথে দেখা করতে চাইতাম। উনার খেলা এবং ব্যক্তিত্ব অতুলনীয়। তবে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে যদি কাউকে বেছে নিতে হয়, তবে আমি অবশ্যই লিওনেল মেসির সাথে দেখা করতে চাইব। আধুনিক ফুটবলে উনার অবদান এবং খেলা সত্যিই জাদুকরী।

বিশ্বকাপের কোন স্মরণীয় ম্যাচটি আজও আপনার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে?
কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা এবং স্মরণীয় একটি ম্যাচ। ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার মধ্যকার সেই ফাইনাল ম্যাচটি আমি ভীষণ উপভোগ করেছি। ম্যাচের প্রতি মিনিটে যেভাবে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, পেনাল্টি শুট-আউট পর্যন্ত যেভাবে লড়াই চলেছে তা এককথায় অবিশ্বাস্য।

খেলা দেখার সময় আপনি কি সাধারণ দর্শকের মতো খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন?
আমি সাধারণ দর্শকদের মতো একদম অন্ধ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি না বা খুব বেশি উত্তেজিত হই না। তবে হ্যাঁ, দিনশেষে আমিও ফুটবলপ্রেমী। তাই প্রিয় দল জিতলে মনটা যেমন আনন্দে ভরে ওঠে, ঠিক তেমনি দল হারলে কিছুটা মন খারাপ বা খারাপ লাগা তো কাজ করেই। এটুকুই যা আবেগ, এর বেশি কিছু নয়।

বাংলিা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল