
উইকিপিডিয়ার ২৫ বছর
২০০১ সালের ১৫ জানুয়ারি।
একটি সাদামাটা ওয়েবপেজে লেখা হলো –
“This is the new WikiPedia!” এক বিশ্বকোষ। তবে পঁচিশ বছর শেষে এ যেন মধুসূদনের “ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন” এর পরিপূরক অর্থ।
সেই ঘোষণার পঁচিশ বছর পর, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রান্তে কেউ না কেউ আজও একই কাজ করে চলেছে- কিছু জানলে তা লিখে দিচ্ছে, ভুল দেখলে শুধরে দিচ্ছে, বিতর্ক হলে কথা বলছে। বিজ্ঞাপন ছাড়াই। পে-ওয়াল ছাড়াই। মালিকানার দাবি ছাড়াই।
১৫ জানুয়ারি ২০২৬-এ, উইকিপিডিয়ার ২৫ পেরোলো। এটি কোনো টেক কোম্পানির বার্ষিকী নয়, একটি ধারণার বার্ষিকী-
যে ধারণা বলেছিল, জ্ঞান হতে হবে উন্মুক্ত, সবার। শুরুর উদ্দেশ্য ছিল- বিশ্বের সবার জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা মিলে তৈরি করবে এক উন্মুক্ত বিশ্বকোষ। কীভাবে তা সম্ভব হলো?
পঁচিশ বছর আগে, উইকিপিডিয়া ছিল একটিমাত্র স্বপ্ন। অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী-হয়তো অসম্ভব-একটি স্বপ্ন। আজ দৃশ্যপট বদলে গেছে—কোটি কোটি পাঠক এবং লক্ষাধিক সম্পাদনা পর্ষদ সদস্য। টোকিওর এক কুড়ি-পঁচিশ বছরের তরুণ থেকে লাগোসের এক বাবা পর্যন্ত। বিলুপ্তপ্রায় একটি ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখা এক শিক্ষকের হাত ধরে, ম্যাচের শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে স্কোর আপডেট করা এক ভক্ত পর্যন্ত। উইকিপিডিয়া হয়ে উঠেছে সবার, বিশ্বের নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার। আপনি কিছু খুঁজলে-তা সেখানে আছে। আপনি কিছু যোগ করলে-পুরো বিশ্ব তা শিখছে। এটি সমগ্র মানবজাতির জ্ঞান-এবং সে জ্ঞানের অংশ আপনি নিজেই।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উইকিপিডিয়া থেকে শেখে। সার্চ ইঞ্জিন এটিকে অনুলিপি করে। আপনার স্মার্ট স্পিকার আপনাকে ফিসফিস করে শোনায়।
“আমি উইকিতে এটা পেয়েছি… মানে… ইন্টারনেটে।” আর এসব কিছুর পেছনে রয়েছে মানুষ। তর্ক করে, সম্পাদনা করে-এবং শেষ পর্যন্ত একমত হয়।
যে পৃথিবীতে পে-ওয়াল আর বিজ্ঞাপনই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে, সেখানে উইকিপিডিয়া আজও মুক্ত, নিরপেক্ষ, উন্মুক্ত, মানবিক। এটাই সেই ইন্টারনেট-যার প্রতিশ্রুতি আমাদের দেওয়া হয়েছিল। শুরুটা ছিল প্রায় হাস্যকর রকমের উচ্চাকাঙ্ক্ষা মোড়ানো। স্বেচ্ছাসেবীরা মিলেই লিখবে একটি বিশ্বকোষ- যা হবে উন্মুক্ত, নিরপেক্ষ, বিনামূল্যের।
তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, এটা বেশিদিন টিকবে না। কিন্তু আজ তা – পঁচিশ বছর জ্ঞানচর্চার। পঁচিশ বছর সহযোগিতার। পঁচিশ বছর ঐকমত্যের। পঁচিশ বছর মানবতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের। জ্ঞানের ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্ব এখন আপনার এবং আমার, আমাদের।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উইকিপিডিয়া হয়ে উঠেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ওপেন নলেজ কালেকশন। আজ এর ভেতরে রয়েছে ৬৬ মিলিয়নের বেশি নিবন্ধ, ৩৪০-এরও বেশি ভাষায়, যেগুলো প্রতি মাসে পড়া হয় প্রায় ১৫ বিলিয়ন বার। পৃথিবীর শীর্ষ দশটি সবচেয়ে বেশি ভিজিট হওয়া ওয়েবসাইটের মধ্যে একমাত্র এটিই অলাভজনক।
এক শুধু ইংরেজি উইকিপিডিয়াতেই আছে প্রায় ৭ মিলিয়ন নিবন্ধ। সব মিলিয়ে শব্দসংখ্যা পাঁচ বিলিয়নের বেশি। হিসাব করলে দেখা যায়- একজন মানুষ যদি টানা পড়তে থাকে, সবটা শেষ করতে লাগবে প্রায় ৩৮ বছর।
মানুষই অ্যালগরিদম
উইকিপিডিয়ার শক্তি তার সার্ভারে নয়, মানুষের মধ্যে। প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিয়মিত লিখছেন, সম্পাদনা করছেন, তথ্য যাচাই করছেন। কেউ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসে ঝড় ও হারিকেন নথিবদ্ধ করছেন। কেউ ভারতে বসে কোভিড মহামারির সময় চিকিৎসার তথ্য যোগ করছেন। কেউ টোকিওতে বসে জাপানি ভাষায় জ্ঞান সংরক্ষণ করছেন। তারা পেশাদার সাংবাদিক নন। তারা একে অপরকে চেনেনও না।
তবু তারা তর্ক করেন, সংশোধন করেন, শেষে কোনো এক ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছান। এক অর্থে, উইকিপিডিয়া হলো মানুষের তৈরি সবচেয়ে বড় সম্মিলিত বুদ্ধিবৃত্তিক চুক্তি। গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি দেখা হয়েছে উইকিপিডিয়ার কোন পেইজগুলো
প্রায় ৩০ কোটি ভিউ নিয়ে, গত এক দশকে ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি দেখা নিবন্ধটি হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নিবন্ধ। শীর্ষ তালিকায় আরও রয়েছে ইলন মাস্ক, মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের চলচ্চিত্র তালিকা এবং চ্যাটজিপিটি।
প্রতি বছরের উল্লেখযোগ্য মৃত্যুর তালিকাভিত্তিক নিবন্ধগুলোও অত্যন্ত জনপ্রিয়। ২০১৫–২০২৫ সময়কালের “Deaths in [year]” পেজগুলো মিলিয়ে গত এক দশকে প্রায় ৫০ কোটি ভিউ পেয়েছে।

কত মানুষ উইকিপিডিয়া ভিজিট করে?
গত এক দশকে উইকিপিডিয়ার নিবন্ধগুলো মোট ১.৯ ট্রিলিয়ন বার দেখা হয়েছে—গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০৮ মিলিয়ন ভিউ। এর প্রায় অর্ধেক (৪৯%) ভিউ এসেছে ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে।
বিশ্বের কিছু সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষায় উইকিপিডিয়ার ভিউ তুলনামূলকভাবে কম। যেমন- চীনা মান্দারিন ও হিন্দি বিশ্বে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বাধিক কথিত ভাষা হলেও, তারা উইকিপিডিয়া ভিউয়ের তালিকায় যথাক্রমে অষ্টম ও পঁচিশতম স্থানে। (২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে চীনের মূল ভূখণ্ডে উইকিপিডিয়া ব্লক করা আছে, যদিও সেখানে বাইদু বাইকে নামে একটি অনুরূপ সাইট চালু রয়েছে।)
মানুষের ভিজিটের পাশাপাশি বটও বিপুল পরিমাণ ট্রাফিক তৈরি করে। শুধু ২০২৫ সালেই ওয়েব ক্রলার, এ-আই বট ও অন্যান্য এআই এজেন্ট মিলিয়ে ৮৮ বিলিয়নেরও বেশি ভিউ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন জানায়, ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় মানব পেইজ ভিউ কমেছে প্রায় ৮% , যার একটি বড় কারন হিসেবে তারা জেনারেটিভ এআই ও এআই সার্চ সামারির বিস্তারকে দায়ী করছে।
উইকিপিডিয়ায় কতটি ভাষা রয়েছে?
উইকিপিডিয়া শুরুতে শুধু ইংরেজিতে প্রকাশিত হলেও দ্রুত অন্যান্য ভাষার সংস্করণ চালু হয়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ, উইকিপিডিয়ায় ৩৪২টি ভাষায় নিবন্ধ রয়েছে। ফরাসি ও জার্মানের মতো অনেক বড় ভাষার উইকিপিডিয়া দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ভাষায় নিবন্ধ দ্রুত বেড়েছে, কারন স্বয়ংক্রিয় বট ওই ভাষাগুলোতে পেইজ তৈরি করে চলছে দ্রুততার সাথে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, Lsjbot নামের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম, যা ভাষাবিদ স্বেরকার ইয়োহানসন তৈরি করেছেন সেবুয়ানো ও সুইডিশ ভাষায় নিবন্ধ তৈরি করবার জন্য। দক্ষিণ ফিলিপাইনে ব্যবহৃত ভাষা সেবুয়ানো এখন নিবন্ধ-সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে, যদিও এই ভাষার সক্রিয় ব্যবহারকারী তুলনামূলকভাবে কম।
এআই এর যুগে কেন উইকিপিডিয়া আরও জরুরি
আজকের ইন্টারনেটে জ্ঞানের চেহারা বদলে যাচ্ছে। সার্চ ইঞ্জিন উত্তর বলে দিচ্ছে। এ-আই চ্যাটবট বিশুদ্ধ সারসংক্ষেপ বানাচ্ছে। ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিসফিস করে তথ্য শোনাচ্ছে। আর এই সব কিছুর নীরব ভিত্তি হিসেবে প্রায়ই থাকে-উইকিপিডিয়া।
উইকিপিডিয়া এখন বৃহৎ ভাষা মডেলগুলোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনিং ডেটাসেট। গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের এ-আই কোম্পানিগুলো-সবাই কোনো না কোনোভাবে এর ওপর নির্ভরশীল। তবু এই নির্ভরতার একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।
২০২৫ সালে উইকিপিডিয়া জানিয়েছে, মানব পাঠকের ভিউ প্রায় ৮% কমেছে, কারন মানুষ এখন অনেক সময় আর লিংকে ক্লিকই করে না- এআই এর করা বিশুদ্ধ সারসংক্ষেপকেই যেন যথেষ্ট মনে করছে ইদানিং।
এই বাস্তবতায় উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে, যাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো শুধু তথ্য নিলো এমন নয়- এই জ্ঞান সংরক্ষণ তথা জ্ঞানের ভান্ডার টিকিয়ে রাখবার দায়িত্বটাও যেন ভাগ করে নেয়।
এবার চলুন, দেখে নেই উইকিপিডিয়ার ব্যাপারে মজার কিছু তথ্য- উইকিপিডিয়াতে এক দিনে সবচেয়ে বেশি ভিউ বা এডিট পাওয়া পেইজ কোনগুলো?
গত ২৫ বছরে এক দিনে সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়া নিবন্ধটি হলো আমেরিকান রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ক-এর নামে লেখা নিবন্ধ। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি কলেজ ক্যাম্পাসে একটি জনসমাবেশে তাকে হত্যা করা হলে, সেদিন তার নিবন্ধে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ভিজিট হয়। এর আগে তার পেইজের মোট ভিউ ছিল মাত্র ৫.২ মিলিয়ন।
এক দিনে সবচেয়ে বেশি সম্পাদিত নিবন্ধ হলো ২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডন বোমা হামলা সম্পর্কিত নিবন্ধটি। হামলার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন তথ্য ও সূত্র যোগ হওয়ায় এটি ২,৮৫৭ বার সম্পাদিত হয়।
উইকিপিডিয়ার কোন পেইজগুলো সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বার সম্পাদিত হয়েছে?
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি সম্পাদিত নিবন্ধ হলো WWE Employee list, যেখানে ৫৯,০০০-এরও বেশি সংশোধন হয়েছে। এই তালিকায় থাকা অন্যান্য নিবন্ধও সাধারণত নিয়মিত আপডেট হচ্ছে, তথ্যভিত্তিক আপডেট আর কি, যেমন- বর্তমান UFC ফাইটার কারা কারা , নেটফ্লিক্সের ফান্ডামেন্টাল প্রোগ্রামিং এবং ATP ট্যুর রেকর্ড এর কি হাল।
কত মানুষ উইকিপিডিয়ায় অবদান রাখছেন প্রতিনিয়ত?
উইকিপিডিয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ৬ লক্ষেরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছেন। অর্থাৎ, যাদের অ্যাকাউন্ট আছে এবং যারা গত ৩০ দিনে অন্তত একবার সম্পাদনা করেছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪৫% ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় অবদান রাখেন।
উইকিপিডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ১ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত ইংরেজি ব্যবহারকারী জীবনে অন্তত একবার সম্পাদনা করেছেন। নিবন্ধন ছাড়াও সীমিতভাবে পেইজ সম্পাদনার সুযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালে, গড়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫.৭টি সম্পাদনা হয়েছে। এর প্রায় ৪০% এসেছে উইকিপিডিয়া অনুমোদিত বট থেকে। এই বটগুলো পরিসংখ্যান হালনাগাদ, লিংক ঠিক করা এবং ইচ্ছাকৃত ভুল বা হাস্যরসাত্মক পরিবর্তন কিংবা সম্পাদনা রুখে দেবার কাজ করে থাকে- মানুষ সম্পাদকদের পাশাপাশি।
ডেটা কী বলে
পরিসংখ্যান বলছে, মানুষ উইকিপিডিয়ায় আসে মূলত মানুষকেই জানতে। গত দশকে সবচেয়ে বেশি দেখা নিবন্ধগুলোর বড় অংশই রাজনীতিক, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির চরিত্র নিয়ে। প্রতি মাসে সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়া নিবন্ধের প্রায় ৪৬%ই কোনো না কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে।
একই সঙ্গে, উইকিপিডিয়া হয়ে উঠেছে তাৎক্ষণিক ইতিহাস লেখার জায়গা। ২০০৫ সালের লন্ডন বোমা হামলার পর ২৪ ঘণ্টায় নিবন্ধটি সম্পাদিত হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার বার। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দিন একটি নিবন্ধ দেখা হয়েছিলো প্রায় দেড় কোটি বার। এখানে ইতিহাস লেখা হয় রিয়েল টাইমে-ভুলসহ, সংশোধনসহ ও বটে।
নিখুঁত নয়, তবু প্রয়োজনীয়
উইকিপিডিয়া নিখুঁত নয়। অনেক ভাষা এখনও কম প্রতিনিধিত্বশীল। অনেক নিবন্ধ বট দ্বারা তৈরি। অনেক বিতর্কের নিষ্পত্তি সময় নেয়। কিন্তু ঠিক এখানেই এর গুরুত্ব। কারন উইকিপিডিয়া দাবি করে না যে সে সত্যের মালিক। সে বলে- সত্য একটি প্রক্রিয়া।
আজ, যখন তথ্য ক্রমবর্ধমান হারে পণ্য হয়ে উঠছে, যখন জ্ঞানকে ঘিরে দেওয়াল তোলা হচ্ছে, তখন উইকিপিডিয়া মনে করিয়ে দেয়- ইন্টারনেট আরেক রকমও হতে পারে, হতে পারতো।
মোদ্দা কথা
২৫ বছর আগে উইকিপিডিয়া ছিল একটি স্বপ্ন। আজ এটি ইন্টারনেটের অবকাঠামোর অংশ। কিন্তু এর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত- কারন এটি টিকে আছে প্রযুক্তিতে নয়, মানুষের অংশগ্রহণে। উইকিপিডিয়া আমাদের কাছে কিছু বিক্রি করে না।
শুধু একটি প্রশ্ন রেখে যায়— আপনি যা জানেন, তা কি অন্যের সঙ্গে ভাগ করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে মুক্ত জ্ঞানের পরবর্তী পঁচিশ বছর।
উইকিপিডিয়া কত বড়?
ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত, উইকিপিডিয়ায় সব ভাষা মিলিয়ে ৬৬ মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধ রয়েছে। এসব নিবন্ধের লেখা, ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য আপলোড করা ফাইল মিলিয়ে প্রায় ৭৭৫ টেরাবাইট স্টোরেজ লাগে—যা প্রায় ৩,০০০টি আইফোনের স্টোরেজ ক্ষমতার সমান।
এর মধ্যে প্রায় ৭ মিলিয়ন নিবন্ধ ইংরেজিতে, যা সবচেয়ে বেশি নিবন্ধসংখ্যার ভাষা। ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় মোট শব্দসংখ্যা ৫ বিলিয়নেরও বেশি। একজন মানুষের পক্ষে সব ইংরেজি নিবন্ধ পড়তে প্রায় ৩৮ বছর সময় লাগবে।
আমরা কীভাবে এই গবেষণা করেছি
উইকিপিডিয়ার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা টেলিগ্রাফের এই গবেষণা ও বিশ্লেষণে সাইটটির গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এই বিশ্লেষণ মূলত উইকিপিডিয়ার নিজস্ব সংকলিত তথ্য এবং উইকিমিডিয়া অ্যানালিটিক্স API থেকে সংগৃহীত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। পাশাপাশি, কিছু তথ্য উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের পাবলিক স্ট্যাটিসটিকস ওয়েবসাইট থেকেও নেওয়া হয়েছে। আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকলে, এই গবেষণার সব ফলাফল ইংরেজি ভাষার উইকিপিডিয়াকে কেন্দ্র করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
যেখানে সম্ভব হয়েছে, সেখানে উইকিপিডিয়ার সম্পূর্ণ ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান- বিশেষত পেইজ ভিউ সংক্রান্ত তথ্য-২০১৫ সাল থেকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, কারন তার আগের সময়ে হিসাবের পদ্ধতি ও ডেটার প্রাপ্যতায় পরিবর্তন ছিল। এই গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানুয়ারি,২০২৬ সালের পূর্বে।
সবচেয়ে বেশি দেখা পেইজ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি অত্যন্ত জনপ্রিয় নিবন্ধ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউটিউব ও ফেসবুকের নিবন্ধ, যেগুলো উইকিপিডিয়া নিজেই তাদের অফিসিয়াল পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করে না, কারন এসব পেইজের ভিউ অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত বলে বিবেচিত। একইভাবে ক্লিওপেট্রা বিষয়ক নিবন্ধটিও বাদ দেওয়া হয়েছে, কারন গুগলের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট একে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করায় এর ভিউ কৃত্রিমভাবে বেড়ে গেছে বলে গবেষকেরা মনে করেন।
সব পেইজ ভিউ বিশ্লেষণে কেবল মানব ব্যবহারকারীর ভিজিট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ও বট কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। উইকিপিডিয়ার নিজস্ব বট শনাক্তকরণ ব্যবস্থার পাশাপাশি, যেসব পেইজে মোবাইল ভিউয়ের হার ৫ শতাংশের কম বা ৯৫ শতাংশের বেশি, সেগুলোকেও বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাভাবিকভাবে বেশি বা কম মোবাইল ট্রাফিক সাধারণত বট কার্যক্রমের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলা টেলিগ্রাফ ঋদ্যেগের গল্প















































