বুধবার । মার্চ ১৮, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের ২০০ সামরিক বিশেষজ্ঞ


Iran Drone

ইউক্রেনীয় দলগুলো ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরবে কাজ করছে এবং কুয়েতের পথে রয়েছে

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সহায়তা দিতে গালফ অঞ্চল ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ২০০-এর বেশি ইউক্রেনীয় সামরিক বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে লন্ডনে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, মোট ২০১ জন ইউক্রেনীয় অ্যান্টি-ড্রোন বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে অবস্থান করছেন এবং আরও ৩৪ জন মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‌‘এসব সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানেন কীভাবে সহায়তা করতে হয়, কীভাবে শাহেদ ড্রোনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে হয়।’ তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ইরানি নকশার ‘কামিকাজে’ ড্রোনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় দলগুলো ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরবে কাজ করছে এবং কুয়েতের পথে রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত সপ্তাহে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, জর্ডানসহ কয়েকটি গালফ দেশে ইউক্রেন সামরিক দল পাঠিয়েছে।

জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে শাহেদ-১৩৬ ড্রোন পেয়েছে এবং ইরান রাশিয়াকে এসব ড্রোন ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি দিয়েছে। পরবর্তীতে রাশিয়া সেগুলো উন্নত করে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, এই অঞ্চলে ব্যবহৃত ইরানি শাহেদ ড্রোনে রাশিয়ার উপাদান রয়েছে।’ তিনি এসব ড্রোনকে ‘কম খরচে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য তৈরি’ বলে উল্লেখ করেন।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘ইরানকে ঘিরে যা ঘটছে, তা আমাদের জন্য দূরের কোনো যুদ্ধ নয়, কারণ রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে।’

ড্রোন যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইউক্রেনের সক্ষমতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির ৯০ শতাংশই ইউক্রেনীয় ড্রোনের মাধ্যমে ঘটছে।

তিনি জানান, ইউক্রেন এখন শুধু সামুদ্রিক ও আকাশপথে ব্যবহৃত ড্রোন নয়, বরং ড্রোন ধ্বংসে সক্ষম ইন্টারসেপ্টরও তৈরি করছে। দেশটি প্রতিদিন অন্তত ২,০০০ ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনে সক্ষম, যার অর্ধেক নিজেদের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত হয় এবং বাকি অংশ মিত্র দেশগুলোর জন্য সরবরাহ করা যেতে পারে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে যদি কোনো শাহেদ ড্রোন থামাতে হয়—আমরা পারব। ইউরোপ বা যুক্তরাজ্যে হলেও পারব। বিষয়টি প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় তার ইউক্রেনের সহায়তার প্রয়োজন নেই।