cosmetics-ad

মানবেতর দিন কাটছে পানিবন্দি লাখো মানুষের

Bogra-Flood

বগুড়ায় যমুনার তীরসংলগ্ন ও চরাঞ্চলের দুই শতাধিক গ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। সামন্য খাবারটুকু মিলছে না দুর্গত এই মানুষদের। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার বানভাসি মানুষদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা যায়।

এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

জেলার ত্রাণ কর্মকর্তা শাহারুল ইসলাম মো. আবু হেনা জানান, চাহিদা মোতাবেক সাড়ে ৫০০ মেট্টিক টন চাল, নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং ছয় হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে পর্যায় ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে সহায়তা সম্ভব হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দির ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার, সোনাতলায় চারটি ইউনিয়নের প্রায় ২৬ হাজার এবং ধুনটে দুটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৭৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ৪৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এ ছাড়া ১৩শ’ নলকূপ পানির নিচে নিমজ্জিত। বিপরীতে ৪০টি নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি প্রায় ৭শ’ নলকূপ মেরামত করা হয়েছে।

সরেজমিনে সারিয়াকান্দির বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর আশ্রয় নেওয়া ষাটোর্ধ্ব বয়সি রহিমা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে তিনদিন হল শুধু দুইবার চিড়া আর গুড় মেখে খেয়েছি। এ পর্যন্ত ভাতের মুখ দেখতে পারিনি।

ওই বাঁধে কথা হয় আরেক বানভাসি করিমন বিবির সঙ্গে। তিন সন্তানের জননী তিনি। তার স্বামী মানিক মিয়া যমুনা নদীতেই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বন্যায় ভেসে গেছে বসতভিটা। বাড়ির দুটি গরু আর ঘরের কিছু আসবাবপত্র নিয়ে ঠাঁই মিলেছে এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর। তাদের তিন সন্তানই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কর্ম না থাকায় কাছে যা পুঁজি ছিল তাও শেষ। এনিয়ে খুব চিন্তিত পরিবারটি।

করিমন বিবি বলেন, এখানে আমাদের কেউ দেখতে আসে না। সাহায্যও করে না। অর্থের অভাবে তিন সন্তানের সামান্য চিকিৎসাটুকু করাতে পারছি না।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ এই বাধেঁর ওপর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এমনিভাবে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের একমাত্র সম্বল গবাধি পশু। বিশেষ করে কোরবানিকে সামনে রেখে প্রতিবছরই প্রতিবাড়িতে গারু-ছাগল পালন করেন তারা। এই শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে পারছেন না। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য সংকট। অনেকে আবার স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, পানি কমতে শুরু করেছে। ত্রাণও প্রতিদিনই দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২শ’ মেট্টিক টন চাল, নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাপক পরিসরে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকলের মাঝে তা বিতরণ করা হবে।

তিনি আরো জানান, বানভাসিদের চিকিৎসা সেবায় ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিমও কাজ করছে। রাইজিংবিডি