
ছবি: বিবিসি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার ঘটনায় রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চালানো এই হামলায় শহরের একাধিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জমহৌরি এলাকায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরার এক প্রতিবেদক।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য হুমকি দূর করতেই’ এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে বলেও তিনি জানান।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তেহরানে হামলার একটি লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের আশপাশের এলাকা। যদিও একটি মাধ্যম জানাচ্ছে, খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই; তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের উত্তরাঞ্চলের সাইয়্যেদ খন্দান এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা
হামলার পর ইসরায়েলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় জনগণকে আগাম সতর্ক করা হয়েছে।
দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেসামরিক সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে আপাতত বিমানবন্দরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকদেরও একইভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে এই হামলার পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে করা হচ্ছিল এবং হামলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে।



































