বৃহস্পতিবার । মার্চ ৫, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা


Iran counter

বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় আরব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

ইরানের সরকারি সূত্রের বরাতে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‌‌‘শক্তিশালী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত’ হানা হয়েছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘শত্রু সম্পূর্ণভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ পাশাপাশি তারা সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব স্থাপনাই ইরানের বাহিনীর কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে হতাহত
ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আবুধাবিতে প্রতিরোধ করা হলেও অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা
বাহরাইন সরকার জানিয়েছে, সেখানে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তারা এ হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক আক্রমণ’ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে।

কুয়েত ও কাতারে বিস্ফোরণ
কুয়েতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ওপর চালানো একাধিক হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী হুমকি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা মোকাবিলা করা হয়েছে এবং সব ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে।’

পরিস্থিতির কারণে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরেও হামলা
উত্তর ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও শনিবার দুই দফা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একটি ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হলেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করে।

ওমান এখনো হামলার বাইরে
দোহা থেকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত কেবল ওমানে কোনো হামলা চালানো হয়নি।

ওমান দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও অন্যান্য দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্প্রতি ওমান ও জেনেভায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনায়ও দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন যে শান্তি ‘হাতের নাগালেই’ রয়েছে এবং আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সেই আলোচনা কার্যত ভেস্তে যায়।