
নারী দলের হাত ধরে এশিয়ার শীর্ষ ফুটবল মঞ্চে পা রাখল বাংলাদেশ
সিডনির রাজপথে এখন লাল-সবুজের উৎসব। ২১তম নারী এশিয়ান কাপ ফুটবলের মূল মঞ্চে আজ এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা) শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। ১৯৮০ সালে পুরুষ দল এশিয়ান কাপে খেলার ৪৫ বছর পর, এবার নারী দলের হাত ধরে এশিয়ার শীর্ষ ফুটবল মঞ্চে পা রাখল বাংলাদেশ।
র্যাঙ্কিংয়ের ১৭ নম্বর দল এবং ৯ বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ১১২ নম্বর বাংলাদেশের এই লড়াইকে কোচ পিটার বাটলার তুলনা করেছেন ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ যুদ্ধের সঙ্গে। পরিসংখ্যানের বিচারে চীন যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে সাফজয়ীরা। কোচ বাটলারের সাফ কথা, “ফলাফল যা-ই হোক, আমরা কেবল রক্ষণাত্মক বা ‘বাস পার্ক’ ফুটবল খেলব না। আমি চাই মেয়েরা স্বাধীনভাবে খেলে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করুক।”
প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে বলতে গিয়ে বাটলার কিছুটা রসিকতা করেই বলেন, “আমরা গুলিস্তানে ক্যাম্প করে সরাসরি সিডনিতে খেলতে এসেছি। বাস্তবতা আমাদের বুঝতে হবে। তবে আমাদের খেলোয়াড়দের হৃদয় অনেক বড়।” অন্যদিকে চীনের অস্ট্রেলিয়ান কোচ আন্তে মিলিচিক নিজ শহরে ফিরলেও বাংলাদেশকে খাটো করে দেখছেন না। বাছাইপর্বে মিয়ানমারকে হারানোর লড়াকু মানসিকতা দেখে তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন নিজ দলকে।
মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই সিডনির রাজপথ দখল করে নিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মিন্টো স্টেশন থেকে প্রায় ২০০টি গাড়ির এক বিশাল শোভাযাত্রা জাতীয় পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাত্রা করবে। সিডনির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা লাকেম্বায় টাইগারদের জার্সির চাহিদাও তুঙ্গে। আয়োজকদের মতে, সিডনি আজ দেখবে ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশিদের আবেগ কতটা গভীর।
দলের সঙ্গে সিডনিতে অবস্থান করছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ঐতিহাসিক এই ম্যাচের জন্য মেয়েরা তাঁর কাছে বিশেষ বোনাসের আবদার করে রেখেছেন। যদিও গত সাফ জয়ের বোনাস এখনো বুঝে পাননি তাঁরা, তবুও মাঠের পারফরম্যান্সে সেটির প্রভাব পড়তে দিতে চান না মারিয়ারা। তাঁদের লক্ষ্য একটাই—এশিয়ার জায়ান্টদের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে নতুন এক বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে চেনানো।





































