
রান আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ১৭তম বৃহত্তম দেশ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। গেলো শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত তেরো শ’র মত মানুষ নিহত হয়েছে।
এর জবাবে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে, এর ফলেও একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, চারজন আমেরিকানের মধ্যে মাত্র একজন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করছেন। ডোনাল্এড ট্ররাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলক বেশি হলেও তা খুব শক্তিশালী নয়। তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ হামলাকে সমর্থন করেছেন, ১৩ শতাংশ বিরোধিতা করেছেন এবং ৩২ শতাংশ অনিশ্চিত।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের প্রায় ৭৪ শতাংশ এই হামলার বিরোধিতা করেছেন; ৭ শতাংশ সমর্থন করেছেন এবং ১৯ শতাংশ অনিশ্চিত মত দিয়েছেন।
ইরান কত বড়?
ইরান আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের ১৭তম বৃহত্তম দেশ। এর আয়তন প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার (৬ লাখ ৩৬ হাজার বর্গমাইল)।
তুলনামূলকভাবে:
এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশের সমান।
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
ভারতের প্রায় অর্ধেক।
ইরাকের প্রায় চার গুণ।
এবং ইসরায়েলের প্রায় ৮০ গুণ বড়।
পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ইরানের স্থলসীমান্ত রয়েছে সাতটি দেশের সঙ্গে। সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত ইরাকের সঙ্গে। এছাড়া সীমান্ত রয়েছে তুর্কেমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, আজারবাইজান, তুরস্ক এবং আর্মেনিয়ার সঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর তুলনায় ইরান
ইরানের আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অঙ্গরাজ্য আলাস্কার প্রায় সমান এবং টেক্সাসের দ্বিগুণেরও বেশি। ইরানের সমান আয়তন পেতে হলে টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, মন্টানা এবং ইলিনয়েস—এই চারটি অঙ্গরাজ্যের আয়তন একত্র করতে হবে।
আর যদি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে বসানো হয়, তাহলে এটি প্রায় মেইনি থেকে ফ্লোরিডা পর্যন্ত পুরো অঞ্চল ঢেকে ফেলবে।
এক নজরে ইরান
ইরানের জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৫ কোটির জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
দেশটির বেশিরভাগ মানুষ পশ্চিম অংশে বসবাস করে, যেখানে পাহাড়ি অঞ্চল, উর্বর উপত্যকা এবং নদী অববাহিকা রয়েছে।
ইরান তেল ও গ্যাস সম্পদে সমৃদ্ধ। এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম তেল উৎপাদক এবং তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদক।
দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বে ৪৩তম। বেকারত্বের হার প্রায় ৯.২ শতাংশ।
ইরানের উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ ও তীব্র শীত থাকে। দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে জলবায়ু অনেক বেশি উষ্ণ। দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর আহভাজে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি পর্যন্ত উঠেছে, যা পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডের মধ্যে পড়ে।
ইরানের বিস্তৃত কেন্দ্রীয় মালভূমি অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা বা অভ্যন্তরীণ ক্যালিফোর্নিয়ার শুষ্ক মরুভূমি এলাকার মতো—যেখানে জনসংখ্যা কম এবং জলবায়ু কঠোর।
ইরানের প্রধান জনবসতি কোথায়?
রাজধানী তেহরান ইরানের সবচেয়ে জনবহুল শহর, যেখানে প্রায় ৯৬ লাখ মানুষ বাস করে। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি অনেকটা নিউ ইয়র্ক শহরের সমান, যেখানে প্রায় ৮৫ লাখ মানুষ বাস করে।
১৭৯৫ সাল থেকে তেহরান ইরানের রাজধানী হলেও শহরটির ইতিহাস প্রায় ৬ হাজার বছরের পুরোনো।
উত্তর-পূর্বের শহর মাশহাদ দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, যেখানে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ বাস করে। এটি জনসংখ্যার দিক থেকে লস এঞ্জেলেসের কাছাকাছি।
মাশহাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র যেখানে প্রতি বছর লাখো তীর্থযাত্রী আসেন।
তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইসফাহানের জনসংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, যা আমেরিকা হিউস্টনের কাছাকাছি। শহরটি ২,৫০০ বছরের বেশি পুরোনো। বর্তমানে এটি শিক্ষা, বস্ত্র, ইস্পাত, উৎপাদন এবং পারমাণবিক ও মহাকাশ শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
এ ছাড়া ইরানের অন্যান্য বড় শহরের মধ্যে রয়েছে শিরাজ, তাবরিজ, কারাজ, কিউওম এবং আহভাজ।



































