
ইসলামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো জাকাত
ইসলামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো জাকাত। এটি কেবল সাধারণ দান নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে নামাজের পাশাপাশি বারবার জাকাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ধনীদের সম্পদকে পবিত্র করে এবং সমাজে দরিদ্রদের অধিকার নিশ্চিত করে।
জাকাত কেন দেবেন?
জাকাতের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত আদায় করো’ (সুরা আল-বাকারা: ৪৩)। এর মাধ্যমে বিত্তবানদের সম্পদে দরিদ্রের হক আদায় হয়, যা সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে।
যাদের ওপর জাকাত ফরজ
জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য তিনটি মূল শর্ত রয়েছে: ১. ব্যক্তিকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। ২. নিসাব পরিমাণ সম্পদ (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ/ব্যবসায়িক পণ্য) থাকতে হবে। ৩. উক্ত সম্পদ মালিকানায় এক বছর অতিবাহিত হতে হবে।
জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত যারা
পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবাহর ৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী আট শ্রেণির মানুষ জাকাত পাওয়ার অধিকারী:
দরিদ্র ও নিঃস্ব ব্যক্তি।
জাকাত সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মচারী।
নওমুসলিম বা ইসলামের প্রতি অনুরাগী ব্যক্তি।
দাস মুক্তির জন্য এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।
আল্লাহর পথে জিহাদ বা দ্বীনি কাজে রত ব্যক্তি।
অসহায় মুসাফির। দৃষ্টি আকর্ষণ: নিজ বাবা-মা, দাদা-দাদি, সন্তান-সন্ততি এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দিতে পারবেন না।
সতর্কতা ও সঠিক বণ্টন
জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে লোক দেখানো মানসিকতা পরিহার করে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত করা জরুরি। জাকাত দেওয়ার আগে প্রাপক সত্যিই হকদার কি না, তা যাচাই করে নিতে হবে। ভুল ব্যক্তিকে জাকাত দিলে এই ফরজ ইবাদত আদায় হবে না।
সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাকাত
বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান জাকাত সংগ্রহ করে বিতরণ করে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা অপরিহার্য। যদি প্রশাসনিক দুর্নীতি বা অনিয়মের কারণে জাকাতের অর্থ সঠিক ব্যক্তির কাছে না পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকে, তবে ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি প্রকৃত দরিদ্রের হাতে জাকাত পৌঁছে দেওয়াই শরিয়তের দৃষ্টিতে নিরাপদ ও উত্তম।










































