মঙ্গলবার । জুন ১৬, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৫ জুন ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের


hormuz

হরমুজ প্রণালি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং তেলবাহী বহু জাহাজ ওই পথ দিয়ে যাত্রা করছে।

সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি থেকে বের হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে অনেক জাহাজই তেলবোঝাই।’

তিনি জানান, জাহাজগুলো প্রণালির দক্ষিণাংশের নিরাপদ নৌপথ ব্যবহার করছে, যা ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে গেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এই পথ পুরোপুরি নিরাপদ, সুরক্ষিত ও পরিষ্কার।’ পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, চলাচলের জন্য আরও বিকল্প রুটও আছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই আসছে শুক্রবার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো।

যদিও চুক্তি শর্তাবলী আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে উভয় পক্ষ জানিয়েছে যে প্রাথমিক সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করা হবে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলো আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে সোমবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক পরামর্শে বলা হয়েছে, শুক্রবারের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।

পরামর্শে সতর্ক করে বলা হয়, ‘ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া সব ধরনের নৌযান চলাচল এখনও সীমাবদ্ধ রয়েছে। আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কেউ যেন এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য না করে।’

স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে
সমঝোতার ইতিবাচক অগ্রগতির কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল হলেও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমুদ্রে পাতা মাইন অপসারণের কাজ শেষ হতে আরও ৪০ থেকে ৫০ দিন লাগতে পারে। এর পরেই বীমা ও শিপিং কোম্পানিগুলো পুরোপুরি আস্থা নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করতে পারবে।

তবে কিছু কোম্পানি এর আগেই সীমিত আকারে চলাচল শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিপিং চেম্বার (আইসিএস) জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৫০০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে আটকে আছেন।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফ্রান্সে শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি সমুদ্রের মাইন অপসারণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করবেন।

তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে
হরমুজ প্রণালি কীভাবে পরিচালিত হবে এবং ভবিষ্যতে এর প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে—এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে যে হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার। চাইলে তেহরান এ পথ বন্ধ করে দিতে পারে অথবা চলাচলের ওপর ফি আরোপ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সোমবার বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে কোনো ধরনের টোল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার আশা করছে ওয়াশিংটন। তবে বিষয়টি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হবে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু ফি আরোপ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এই জলপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে কিছু সময় প্রয়োজন।’

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স দাবি করেছেন, সমঝোতা স্মারকটি ইতোমধ্যে রোববার ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে চুক্তির মূল শর্তগুলো পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম।