
জাকারবার্গ মনে করেন, সাধারণ মেধার চেয়েও লক্ষ্যস্থির রাখার ক্ষমতা মানুষকে দ্রুত সফল করে তোলে
একই ধূসর রঙের টি-শার্ট, সুশৃঙ্খল রুটিন এবং ডিস্ট্রাকশনমুক্ত জীবন – মেটার কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গের এই জীবনধারা আজ বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্মের কাছে সাফল্যের আদর্শ। জাকারবার্গ মনে করেন, সাধারণ মেধার চেয়েও লক্ষ্যস্থির রাখার ক্ষমতা মানুষকে দ্রুত সফল করে তোলে। তার জীবন থেকে নেওয়া ৬টি অমোঘ নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ কমানো
অপ্রয়োজনীয় ছোটখাটো সিদ্ধান্ত পরিহার করা জাকারবার্গের অন্যতম প্রধান কৌশল। প্রতিদিন একই রঙের পোশাক পরার পেছনে তার দর্শন হলো, ‘আজ কী পরব’—এই সামান্য সিদ্ধান্তটিও যেন মস্তিষ্কের শক্তি অপচয় না করে। জাকারবার্গকে প্রায়ই একই রঙের ধূসর টি-শার্টে দেখা যায়। ২০১৪ সালে ফেসবুকের একটি ‘পাবলিক কিউএন্ডএ’ (Q&A) সেশনে তিনি নিজেই এর কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি আমার জীবনকে খুব সাধারণ রাখতে চাই যাতে আমাকে ‘আজ কী পরব’—এই ছোট সিদ্ধান্তটি নিতে না হয়। ছোট সিদ্ধান্তগুলো মস্তিষ্কের শক্তি অপচয় করে, আমি সেই শক্তি গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগাতে চাই।”
২. টাইম ব্লকিং ও রুটিনের গুরুত্ব
জাকারবার্গ তার কাজের সময়কে নির্দিষ্ট ব্লকে ভাগ করে নেন। বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি তার গভীর মনোযোগের কাজের জন্য দিনক্ষণ আগে থেকেই চূড়ান্ত রাখেন। তিনি মনে করেন, ফোকাস করার বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়; একটি নির্দিষ্ট কাঠামোই কাজের গভীরতা নিশ্চিত করে।

জাকারবার্গ তার কাজের সময়কে নির্দিষ্ট ব্লকে ভাগ করে নেন
৩. মনোযোগকে পেশির মতো প্রশিক্ষণ দেওয়া
পেশাদার পডকাস্টার জো রোগানের (The Joe Rogan Experience) শো-তে জাকারবার্গ তার জুজুৎসু এবং এমএমএ (MMA) প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, মনোযোগ কেবল একটি মানসিক অবস্থা নয়, এটি একটি পেশির মতো যা নিয়মিত চর্চায় শক্তিশালী হয়। এজন্য তিনি জুজুৎসুর মতো চ্যালেঞ্জিং খেলাধুলা ও শারীরিক ব্যায়ামকে গুরুত্ব দেন, কারণ সুস্থ শরীরই পারে লক্ষ্যকে পরিষ্কার রাখতে।
৪. ডিজিটাল ডিস্ট্রাকশন ছেঁটে ফেলা
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েও জাকারবার্গ নোটিফিকেশনের দাস হতে নারাজ। লেক্স ফ্রিডম্যানের পডকাস্টে তিনি আলোচনা করেছিলেন কীভাবে তিনি ডিজিটাল জগত থেকে দূরে থেকে গভীর চিন্তার সময় বের করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ডিস্ট্রাকশন আপনাকে থামিয়ে দেওয়ার আগেই সেগুলোকে জীবন থেকে সরিয়ে ফেলা জরুরি।

ডিস্ট্রাকশন আপনাকে থামিয়ে দেওয়ার আগেই সেগুলোকে জীবন থেকে সরিয়ে ফেলা জরুরি
৫. দক্ষ ‘কোর টিম’ গঠন
জাকারবার্গ বিশ্বাস করেন মানুষের সংখ্যার চেয়ে দক্ষতার গুণমান বেশি জরুরি। তিনি একাধিক ইন্টারভিউতে বলেছেন যে, একজন অসাধারণ প্রকৌশলী ১০০ জন সাধারণ কর্মীর সমান কাজ করতে পারেন। হট্টগোল যত কম হবে, কাজের ‘সিগন্যাল’ তত স্পষ্ট হবে—এই নীতিতেই তিনি মেটার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো পরিচালনা করেন।
৬. মাল্টিটাস্কিংয়ের ঘোর বিরোধী
অনেকেই একসাথে অনেক কাজ করাকে গর্ব মনে করলেও জাকারবার্গ এর বিপক্ষে। বিভিন্ন ব্যবসায়িক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এক সময়ে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই স্থির থাকেন এবং বাকি সব কিছুকে ‘কোলাহল’ হিসেবে গণ্য করেন। তার মতে, একটি কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করাই বড় জয় এনে দেয়।
মূলত এই স্বচ্ছ চিন্তা আর অবিচল মনোযোগই বদলে দিয়েছে তার জীবন, যা যে কারো জন্য হতে পারে সাফল্যের পাথেয়।











































