বুধবার । মার্চ ৪, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ১ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

মালয়েশিয়ায় দালালের নির্যাতনে কক্সবাজারের তরুণ নিহত, কফিনে ফিরল স্বপ্ন


death-body

ছবি: সংগৃহীত

উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেঁচার দ্বীপ গ্রামের তরুণ আবদুল্লাহ কাজল (১৮)। কিন্তু দালাল চক্রের অমানুষিক নির্যাতনে সেই স্বপ্ন এখন কফিনে বন্দি। দীর্ঘ দেড় মাস পর গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কাজলের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে তাকে দাফন করা হয়।

একই ঘটনায় কাজলের আরও দুই বন্ধুর একজন পঙ্গুত্ব নিয়ে দেশে ফিরেছেন এবং অন্যজন বর্তমানে মালয়েশিয়ার কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

পরিবারের দাবি, দালালদের দাবি করা টাকা সময়মতো না পেয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে কাজলকে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে মালয়েশিয়ায় তার মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কাজলের মরদেহ গ্রামে পৌঁছায়। শনিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত কাজলের পিতা মোহাম্মদ ইসমাঈল জানান, একই গ্রামের শফিউল আলম (শফি) ও রফিক আলম (কালু) নামের দুই সহোদর দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। শফিউল বাংলাদেশে অবস্থান করে লোকজন সংগ্রহ করতেন, আর রফিক মালয়েশিয়ায় নিয়ে তাদের জিম্মি করে নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন।

ইসমাঈল অভিযোগ করেন, রফিকের দাবি করা সাড়ে চার লাখ টাকা শফিউলের হাতে দিলেও তার ছেলেকে রক্ষা করা যায়নি। পরে জানা যায়, শফিউল ওই টাকা মালয়েশিয়ায় না পাঠিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। যথাসময়ে টাকা পৌঁছালে হয়তো ছেলের মৃত্যু এড়ানো যেত বলে দাবি করেন তিনি।

প্রায় চার মাস আগে কাজল ও তার দুই সহপাঠী ফারুক এবং জাহাঙ্গীরকে প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফে নিয়ে যায় শফিউল। সেখান থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয় তিনজনকে। তাদের বয়স ছিল ১৭ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।

ফারুকের পিতা জানান, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর তিনজনকে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় দিনের পর দিন মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রফিকের সহযোগী কয়েকজন রোহিঙ্গা বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালাত। নির্যাতনের একপর্যায়ে কাজল মারা গেলে তার মরদেহ পাশের ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়। ফারুককে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং জাহাঙ্গীরকে মালয়েশিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারুককে পরিবারের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার দেশে ফিরিয়ে আনেন। তিনি জানান, বন্দিশালায় আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হতো।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, নিহতের পিতা ইসমাঈল বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি নালিশী মামলা করেছেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন মামলাটি তদন্ত করছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।