বুধবার । মার্চ ১৮, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৮ মার্চ ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করা কে এই জো কেন্ট?


kent

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পদত্যাগপত্রে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে লেখেন।

চিঠিতে কেন্ট বলেন, ‘আমি বিবেকের তাড়নায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে সমর্থন দিতে পারছি না। ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না, এবং এটা স্পষ্ট যে আমরা ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী মার্কিন লবির চাপে এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।’

কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংস্থাটি সন্ত্রাসবাদবিষয়ক গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় ও বিশ্লেষণের দায়িত্বে নিয়োজিত। তার এই পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কে এই জো কেন্ট?
৪৫ বছর বয়সী কেন্ট একজন সাবেক মার্কিন বিশেষ সেনা বাহিনীর সদস্য। তিনি ১১টি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে ইরাক যুদ্ধও রয়েছে।

তার প্রথম স্ত্রী শ্যানন কেন্ট, যিনি মার্কিন নৌবাহিনীর ক্রিপ্টোলজিক টেকনিশিয়ান ছিলেন, ২০১৯ সালে সিরিয়ায় এক আত্মঘাতী হামলায় তিনি নিহত হন। তার দুই সন্তান রয়েছে।

পরবর্তীতে কেন্ট রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে দুইবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে দুইবারই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

কেন্ট আট মাস আগে এনসিটিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। জুলাই মাসে সিনেটে ৫২-৪৪ ভোটে তার নিয়োগ অনুমোদিত হয়, যেখানে কেবল রিপাবলিকানদের সমর্থন ছিল।

কেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গাবার্ড। তিনি কেন্টের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তাকে ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

কেন্ট, গ্যাবার্ড এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স—এই তিনজনকে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি অংশ হিসেবে দেখা হতো, যারা বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্ক।

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্টের পদত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন না আনলেও রাজনৈতিকভাবে তা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে মতবিরোধের স্পষ্ট প্রমাণ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।

ওদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন্টের সমালোচনা করে বলেন, তিনি ‘নিরাপত্তা বিষয়ে দুর্বল’ ছিলেন। কংগ্রেসে কিছু রিপাবলিকান নেতাও কেন্টের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তবে

কেন্ট তার চিঠিতে ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করায় তাকে কেউ কেউ ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ করেছেন। তবে তার সমর্থকরা বলছেন, এটি নীতিগত সমালোচনা।