মঙ্গলবার । এপ্রিল ২১, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক খেলা ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

রাজশাহীকে হারিয়ে বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালস


mehedi

চট্টগ্রামকে ফাইনালে তুলে হাত উঁচিয়ে জয় উদযাপন করছেন শেখ মেহেদী। ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে বিপিএলের চলতি আসরের ফাইনালে নাম লিখিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান, যা রিপন মণ্ডলের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সহজেই পূর্ণ করেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ৩ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের দাপুটে জয়ে সবার আগে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে জায়গা করে নিল চট্টগ্রাম। তবে হারলেও সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি রাজশাহীর; দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে তারা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলারদের তোপে পড়ে বড় সংগ্রহ গড়তে হিমশিম খায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দলীয় ৩০ রানে সাহিবজাদা ফারহান ২১ রান করে বিদায় নেওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। বিশেষ করে নবম ওভারে শেখ মেহেদী হাসানের জোড়া আঘাত রাজশাহীকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮ রান এবং অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম গোল্ডেন ডাক মেরে মাঠ ছাড়লে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী। এরপর আকবর আলী, জিমি নিশাম ও রায়ান বার্ল সল্প রানে আউট হলে ৯৮ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা।

বিপর্যয়ের মুখে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াকু ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান তামিম। কঠিন উইকেটে ৩৭ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৪১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। তবে শেষের দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বিধ্বংসী ক্যামিওতে লড়াকু পুঁজি পায় রাজশাহী। সাকলাইন মাত্র ১৫ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৩২ রান করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে রিপন মণ্ডল করেন ১০ রান। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৩৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় রাজশাহী। চট্টগ্রামের পক্ষে শেখ মেহেদী ও আমির জামাল দুটি করে উইকেট নেন।

জবাবে ১৩৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও মির্জা বাইগ। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৯ বলে ৬৪ রান তুলে জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। নাঈম শেখ ৩৮ বলে ৩০ রান করে আউট হলেও মির্জা বাইগ ৪৭ বলে ৪৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। মাঝে দুই পাকিস্তানি ব্যাটার হাসান নেওয়াজ ২০ এবং আসিফ আলি ১১ রান করে জয়ের পথ সহজ করে দেন। এরপর অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ক্রিজে এসে মাত্র ৯ বলে ২টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১৯ রান তুলে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রামের এই জয়ে দলগত সংহতি ও বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়েন। অন্যদিকে রাজশাহীর বোলাররা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করলেও পুঁজি কম হওয়ায় জয়ের দেখা পায়নি। এখন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে নিজেদের ভুল শুধরে সিলেট টাইটান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ফেরার লক্ষ্য থাকবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের।